যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন—এ খবর সবারই জানা। আবার ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের নেগেটিভ ফল এসেছে, সেটাও সবাই জেনেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের জীবন নিয়ে যেমন শঙ্কা বাড়ছে, তেমনি বাইডেনকে নিয়েও শঙ্কা কম নয়। কারণ ট্রাম্পের বয়স ৭৪ বছর, বাইডেনের ৭৭ বছর। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্কদের ঝুঁকিই সবচেয়ে বেশি। ট্রাম্প ও বাইডেন সেই বয়স শ্রেণিতেই পড়েছেন। ট্রাম্প জনসমাগমের মধ্যে গিয়েছিলেন, বাইডেনও গিয়েছিলেন। পার্থক্য কেবল ট্রাম্প হয়তো সব সময় মাস্ক পরেননি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি। বাইডেন বেশির ভাগ সময়ই এগুলো মেনে চলেছেন, সব সময় নয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বাইডেনের নেগেটিভ, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক মেলিন্ডা ওয়েনার ময়ের। তার মতে, নেগেটিভ ফল এলেই কী আমরা বলতে পারি ঐ মানুষটি আর করোনা ভাইরাস নামের মহামারি রোগে আক্রান্ত হবেন না? না। কারণ নেগেটিভ আসার অর্থ হচ্ছে, একটা মুহূর্তে তার সোয়াব নেওয়া হয়েছিল। তখন ঐ সোয়াবে ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। তার মানে এই নয় যে ঐ লোকের মধ্যে আর ভাইরাসটি আসতে পারে না। কয়েক দিন কিংবা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে কেউ আবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। মিনেসোটার রোচেস্টারের মেয়ো ক্লিনিকের চিকিত্সক কলিন পি ওয়েস্ট বলছেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গেছে যে পজিটিভ আসার অর্থ রোগটি শরীরে আছে। নেগেটিভ আসার অর্থ নেই। কিন্তু এটা সত্য নয়।’
ডার্টমাউথ ইনস্টিটিউটের প্রফেসর স্টিভেন উলোশিন বলেন, নেগেটিভ ফল সব সময়ই যে ঠিক হয়, তা নয়। এটা তো মিথ্যাও হতে পারে। কারো নেগেটিভ এলো এবং তিনি বাইরে ঘুরে বেড়ালেন। অথচ তার শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব আসলে আছে। তাহলে তিনি অনেকের মধ্যে ছড়ালেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর আগে কয়েকবার এমনকি বিতর্কের আগে পরীক্ষা করিয়েছেন, কিন্তু নেগেটিভ এসেছে। অথচ এবার পজিটিভ এলো। একইভাবে এটা সত্য হতে পারে বাইডেনের ক্ষেত্রেও। গত মে মাসে জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশ মানুষের পরীক্ষায় প্রথমে নেগেটিভ এসেছে। কয়েক দিন পরের পরীক্ষায় পজিটিভ ফল পাওয়া গেছে। গত জুনে নিউ ইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান ল্যাবরেটরির গবেষণায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মার্চ ও মে মাসে তাদের প্রথমে নেগেটিভ এসেছে, কয়েক দিনের মাথায় পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত অনেকের ফুঁসফুঁসের গভীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, উপরের শ্বাসতন্ত্রে নয়। তাই নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে সমস্যায় থাকায়ও ফল নেগেটিভ আসতে পারে। এজন্য ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা হোপ হিকসের সান্নিধ্যে যারা এসেছিলেন, তাদের এখনকার পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও অন্তত দুই সপ্তাহ সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিত।
g বাইডেনের প্রচারণায়ও কাটছাঁট
বাইডেন বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি নয়। তিনি ট্রাম্পের সুস্থতা কামনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে করোনাকে আমরা অবহেলা করতে পারি না। বাইডেনের প্রচারণায় কাটছাঁট আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবার আগে যতটা মানুষ প্রচারণা সমাবেশে যোগ দিত, এখন তার চেয়ে অনেক কম হবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে এক প্রচারণায় সেই চিত্র চোখে পড়েছে। আগের মতো কোনো আয়োজনই ছিল না এই প্রচারণা সমাবেশে। এত কিছুর পরও অনেক ডেমোক্র্যাট আবার প্রচারণা সমাবেশ বহাল রাখার কথা বলছেন। বিশেষ করে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে প্রচারণা যথানিয়মে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।