আধুনিক লাইফস্টাইল স্বাস্থ্যহানির মূল কারণ

আজকের আধুনিক সমাজে নিজেদেরকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টায় আমরা নিজেদের পেশা ছাড়াও সব দিক দিয়ে দক্ষ হতে চাই। বহু প্রতিভার অধিকারী হতে গিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা ভুলে যাই, তা হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। একটা কথা আছে, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। কিন্তু বর্তমানে এ কথা মানে কয়জন। সবাই এখন সফলতার পেছনে ছুটছে। জীবনধারণে অসংখ্য অনিয়মও রয়েছে, যেগুলোর অনেকটাই আধুনিকতার ফসল। শরীরচর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এ সবকিছুর ফলস্বরূপ  সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন রোগ। বর্তমানে প্রায় সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর। সকালে ঘুম থেকে ওঠা হতে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি। যার জন্য অনিদ্রা, ডিপ্রেশন, স্থূলতা এরকম অনেক জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। শিশুদের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, এখন শিশুরা ভিডিও গেমের দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তারা মাঠে খেলতে চায় না বা খেলার মতো উপযুক্ত মাঠ নেই। শরীরচর্চা না করার কারণে অল্প বয়স থেকেই ডায়াবেটিস, স্থূলতার মতো জটিল রোগে ভোগে শিশুরা। পরবর্তী সময়ে এসব রোগ আরো বড় আকারে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্ষতিসাধন করে। তাই শিশুদের শরীরচর্চার দিকে, খেলার মাঠের দিকে আকৃষ্ট করতে হবে। এতে ওদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। এবার  বড়দের জীবনধারণ পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া যাক, সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে নাশতা করে বা না করে কর্মস্থলের জন্য যাওয়া। ওনাদের নাশতা সাধারণত হয় এক কাপ দুধ-চা আর পাউরুটি, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। তারপর স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি কিংবা অফিস যেখানে যান না কেন আপনাকে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তাদের তো দিনটাই কেটে যায় কম্পিউটার ডেস্কের সামনে বসে কাজ করতে করতে। যার কারণে চোখে সমস্যার সৃষ্টি হয় আর শরীরচর্চা না থাকার কারণে ডায়াবেটিসের মতো রোগ হয়, যা আপনার রোগপ্রতিরোধক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়, কোলেস্টেরল বেড়ে তা হূদেরাগের মতো মরণব্যাধির সৃষ্টি করে। যার ফলে অকালে মৃত্যু অথবা অসংখ্য রোগব্যাধি।

খাদ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খাবার খেলে আমরা শক্তি পাই। কিন্তু আমাদের শারীরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে খাবার তালিকা তৈরি ও সেই অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। ফাস্টফুড, তৈলাক্ত খাবার, চিনি, অতিরিক্ত শর্করাজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু  ফাস্টফুড ছাড়া তো আমরা কিছুই বুঝি না। পিত্জা, স্যান্ডউইচ না খেলে তো দিনের শুরুই হয় না। এসব জিনিস ক্ষতিকর জেনেও আমরা এগুলোকে ছাড়তে পারি না। প্রত্যেকেরই বিএমআর অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা উচিত, এটা স্বাস্থ্যসম্মত।

কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ফাস্টফুড এগুলো আগে ছিল না, আধুনিকতার দান এসব। আধুনিকতা খারাপ নয় কিন্তু প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার করা ক্ষতিকারক। আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিতে হবে, না হলে অপমৃত্যু বা জটিল রোগব্যাধি নিয়ে জীবন যাপন করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে আর সুষম খাদ্য খেলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আমাদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে, আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে। ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’ এ কথাটি মনে রাখতে হবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়