নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আগে রাখঢাক করে মাদক বিক্রি করা হলেও এখন বিকিকিনি চলে প্রকাশ্যে ফেরি করে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ভাটা পড়ায় বেপরোয়া হয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ফলে বর্তমানে হাত বাড়ালেই মিলছে সকল প্রকার মাদক।
শহরের চাঁনমারি, দেওভোগ, গলাচিপা, শীতলক্ষ্যার মোড়, নিতাইগঞ্জ, সৈয়দপুর, ফতুল্লা ও মাসদাইরে একাধিক সিন্ডিকেট বিনা বাধায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া খোঁজপাড়া, স্টেশন, কাশীপুর, মাদ্রাসা, চাঁনমারি পাগলা, তক্কার মাঠ এলাকায় প্রকাশ্যে চলে মাদক বেচাকেনা। আর এসব মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশের সোর্স। যার ফলে পুলিশ অভিযানে গেলে সোর্সরা মাদক ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই সতর্ক করে দেয়। পুলিশের গাড়িতে কোনো সোর্স থাকবে না বলে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা থাকলেও প্রতিনিয়তই গাড়িতে সোর্সদের উপস্থিতি দেখা যায়। মূলত এরাই মাদক নির্মূলে বাধা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এদিকে জেলা সদর ছাড়াও জেলার রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জে অভিনব কৌশলে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের চাঁনমারি বস্তিতে প্রকাশ্যেই ফেরি করে মাদক বিক্রি চলে। এতে অনেক সময় পথচারীদের বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাদকবিরোধী সমাবেশ বা থানায় ওপেন হাউজ ডেতে মাদকবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও তাদের পরিবারের সদস্যদেরই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে পুরো নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসা এখন পুলিশ সোর্সদের নিয়ন্ত্রণে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যার কারণে মাঝেমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মাদকের চালান প্রবেশ করছে নারায়ণগঞ্জে। হাতেগোনা কয়েকটি মাদকের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও বেশির ভাগই নিরাপদে চলে যাচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে। বিভিন্ন সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের ক্ষেত্রে নদী, সড়ক ও রেলপথের সুবিধা থাকায় একের পর এক রুট পরিবর্তন করে সহজেই নারায়ণগঞ্জে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। রাতের আঁধারে কিংবা নীরব সময়েই নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে মাদক চলে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী, শিশু, কিশোর এবং তরুণীদের।