সিনহা হত্যা মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের দায়ের করা হত্যা মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বরখাস্ত হওয়া পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকতের পক্ষে এই রিভিশন আবেদন দায়ের করা হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদনটি দায়ের করেন ঢাকার আইনজীবী মেজবাহ সালাউদ্দিন ও কক্সবাজারের অ্যাডভোকেট ফরহাদ শাহরিয়ার। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী মেজবাহ সালাউদ্দিন জানান, গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেজর সিনহার বোন হত্যা মামলাটি করেন। সেই মামলার আদেশের বিরুদ্ধে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। কারণ সিনহার বোনের মামলাটির বিচার প্রক্রিয়ায় আইনের ২০৫ ডি সেকশন অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে ন্যায়বিচার   প্রতিষ্ঠা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রিভিশনের বিষয়টি নিশ্চিত করে পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল আবেদনটি গ্রহণ করে আগামী ২০ অক্টোবর শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রিভিশনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বাদী শারমিন ফেরদৌস বলেন, ‘অভিযুক্তরা নিজেদের বাঁচাতে নানাভাবে প্রক্রিয়া চালাতেন পারেন। আমরা আমাদের কথা আদালতে তুলে ধরছি। রিভিশন আবেদনের শুনানির দিনও আমাদের কথা তুলে ধরব। সঠিক না বেঠিক, সেটা বিচার করার এক্তিয়ার বিজ্ঞ আদালতের। আমার কামনা, আমার ভাইয়ের নির্মম হত্যার ন্যায়বিচার পাব।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। ঐ ঘটনায় সিনহার বোন কক্সবাজারের হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে লিয়াকত আলীকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। মামলার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলায় সহযোগী আসামিসহ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ১৪ জন। মামলাটি র্যাব তদন্ত করছে। তারা মামলার ১৩ আসামিকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ পর্যন্ত মামলায় ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে অন্যতম অভিযুক্ত ওসি প্রদীপ সর্বোচ্চ ১৫ দিন রিমান্ডে থাকলেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আর নতুন যুক্ত হওয়া আসামি কনস্টেবল রুবেল শর্মার সম্প্রতি সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এখনো শুরু করা হয়নি। এদিকে সিনহা হত্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে সেই প্রতিবেদনে কী আছে তা এখনো খোলাসা করেনি মন্ত্রণালয়।