সম্প্রতি রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ শ্রেষ্ঠ ওসি মনোনীত হন। এর আগে ধর্ষণ মামলার এজাহার পরিবর্তনের পর এবার তার বিরুদ্ধেই উঠেছে সোনার বার গায়েবের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দুই প্রবাসীকে চারটি সোনার বারসহ আটকের পর দুটি গায়েব করেন ওসি ও তার সামারি টিমের প্রধান এসআই মতিন। এর আগে ওসি নিবারণের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার এজাহার জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। আসামিকে বাঁচাতে মামলায় ঘটনার তারিখ ইচ্ছেকৃতভাবে ওসি এবং এসআই মিলে পরিবর্তন করেন বলে ঐ ছাত্রী অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর কাতার প্রবাসী শ্রমিক আজিজুল ও ফারুক দুটি করে সোনার বার নিয়ে দেশের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফিরছিলেন। ঐদিন দুই শ্রমিককে নগরীর বর্ণালীর মোড় এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে নেন এসআই মতিন। দুটি সোনার বারসহ ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করে আজিজুল ও ফারুককে আদালতে চালান করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওসি নিবারণ ও এসআই মতিন যোগসাজশ করে দুটি সোনার বার গায়েব করেছেন। মামলায় উল্লেখ না করা দুটি সোনার বার ফেরতের জন্য এসআই মতিন তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকাও নিয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোনার বার দুটি আর ফেরত দেননি তিনি।
জানা যায়, দুই শ্রমিকের বাড়ি ও এসআই মতিনের গ্রামের বাড়ি একই এলাকায় এবং তারা পরস্পরের প্রতিবেশী। দুই প্রতিবেশী প্রবাসী শ্রমিকের দেশে ফেরার আগাম খবর পেয়েই তাদের বাস থেকে নামিয়ে নেন এসআই মতিন। সোনা ও বিদেশ থেকে আনা মূল্যবান সামগ্রী কেড়ে নিতেই এসআই মতিন পরিকল্পিতভাবে তাদের আটক করেন।
আজিজুলের স্ত্রী শরিফা খাতুন বলেন, তারা পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করতে চাইলে এসআই মতিন তাকে ফোনে হুমকি দেন। বলেন, ‘অভিযোগ করলে রিমান্ডে এনে তোর স্বামীকে একবারেই খালাস করে দিব।’
এদিকে দুই শ্রমিককে আটকের ঘটনায় এসআই মতিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
সোনার বার গায়েবের অভিযোগের বিষয়ে এসআই আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আসামিরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, দুই জনের কাছে দুটি সোনার বার পাওয়া গেছে। দুটি সোনার বার উল্লেখ করেই থানায় মামলা হয়েছে।