মিন্নিসহ ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষ ব্যবস্থায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি বরগুনার আদালত থেকে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে মামলার নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায়। শাখা সূত্র জানিয়েছে, এখন এই মামলার নথি যাচাইবাছাই করে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তৈরি করা হবে। পরে তা বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। এদিকে শনিবার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেয়েছে আসামিপক্ষ। ঐ অনুলিপি পেয়েই বরগুনা থেকে সকালে ঢাকায় আসেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। সকালে রায়ের কপি তুলে দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার হাতে। রায়ের কপি পেয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নির ফাঁসির রায়ের কাগজপত্র সবেমাত্র আমরা পেয়েছি। অতিদ্রুত আপিল দাখিল করতে যাচ্ছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সে ন্যায়বিচার পায়।’

মিন্নির বাবা বলেন, রিফাত হত্যার পেছনে নয়ন বন্ড তৈরির কারিগর যারা, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক সেই প্রভাবশালীদের রক্ষার জন্য পুলিশি তদন্তে মিন্নিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে কনডেম সেলে খুব কষ্টে আছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি সেখানে সে ন্যায়বিচার পাবে।’

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ এলাকায় দিনে-দুপুরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল তরুণ। এই নয়ন ছিল ‘০০৭’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। বরগুনা শহরে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় নয়ন ও রিফাত ফরাজীরা মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের পর এই মামলার প্রধান আসামি নয়ন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এই মামলায় ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নি, রিফাত ফরাজীসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

ঐ রায়ে বলা হয়, রিফাত শরীফকে হত্যা পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা (মাস্টারমাইন্ড) ছিলেন তার স্ত্রী মিন্নি। তার এই উদ্যোগে আসামি নয়ন বন্ড সাড়া দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। ঐ পরিকল্পনা প্রণয়নের পরই নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ অন্য আসামিরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী যখন রামদা দিয়ে ভিকটিম রিফাত শরীফকে কোপাচ্ছিল, তখন নয়নকে ঠেকাতে মিন্নির চেষ্টা ছিল অভিনয়মাত্র। এই অভিনয়ের আড়ালে সুকৌশলে আসামি রিফাত ফরাজী যাতে ভিকটিম রিফাত শরীফকে আঘাত করতে পারে, সেই সহায়তা করে মিন্নি। এর ফলে মিন্নির কারণেই রিফাত নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার বয়সি মেয়েদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।