একটি অনন্য বাতিঘর

শিক্ষার আলো ছড়ানোর ঐতিহ্যবাহী এক বাতিঘরের নাম কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়। এলাকার কৃতী সন্তান আব্বাস আলী খান ১৯৪১ সালে এ বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিদ্যাপীঠটি ক্রমেই একটি ঐহিত্যবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে এই বিদ্যাপীঠটি ‘মুক্তিযুদ্ধের দুর্গ’ হিসেবে গৌরবময় পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধারা এখানে থেকেছেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, এখান থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ইতিহাস সৃষ্টিকারী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় স্মৃতির আধার এ প্রতিষ্ঠানটি। দেশমাতৃকায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ প্রতিষ্ঠানের ১২২ জন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। গৌরবময় স্মৃতির ধারক ও বাহক আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় কালের সাক্ষী হয়ে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের দুর্গ হিসেবে। নিঃসন্দেহে এটা অনন্য এক গৌরবের বিষয়। ঢাকার ধামরাই উপজেলার খ্যাতিমান এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুর রহমানের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু এলাকার গর্ব নয়, তিনি মনে করেন এটি দেশ ও জাতির গর্ব।

পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী কনিষ্ঠ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক আইয়ুবের নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদসহ অন্য শিক্ষকরা উদ্যোগী হয়ে এ বিদ্যালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ১২২ জন শিক্ষার্থীর নামের তালিকাসংবলিত একটি বিশাল দৃষ্টিনন্দন নামফলক মূল ভবনের সামনে স্থাপন করেছেন। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক আইয়ুব জানান যে, এ প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ১২২ জন শিক্ষার্থীর সম্মানে, তাদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে তাদের দায়বদ্ধতা থেকে তারা সবাই উদ্যোগী হয়ে নামফলকটি বসিয়েছেন।

শুধু শিক্ষায় নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায়ও প্রতিষ্ঠানটি সুনামের স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছে। উপজেলার অন্যতম গৌরবময় এই প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও সফলতার ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অভিভাবক প্রতিনিধি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান বিপ্লব।

অবদানের দিক বিবেচনায় ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় এই প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশায় প্রত্যাশী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

n লেখক :শিক্ষার্থী, এমএস, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়