রংপুর সদর উপজেলা

জমে উঠছে তিন ইউনিয়নের নির্বাচনি প্রচারণা

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের পক্ষে তুমুল প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন ভোটার ও সমর্থকরা। উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতীক লাঙ্গল, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ফরমে লিখিত চাওয়া অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পরপরই তুমুল প্রচারণা শুরু করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। গানের ছন্দে, হাততালি দিয়ে মাইকে চলছে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা। জমে উঠছে সদর উপজেলার হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুস্করণী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাঠ। গত রবিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মোটরসাইকেল, আটোরিকশা ও ভ্যানে মাইকসহ সদ্যপুস্করণী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে তুমুল প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফুলবাবুর ভোটার ও সমর্থকরা। এ সময় তিনি বলেন, এই সদ্যপুস্করণী ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ভোটারদের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব। অন্যদিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঢোল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানার চিত্র ভিন্ন। তিনি বেশির ভাগ সময় পায়ে হেঁটেই সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং সবার কাছে ভোট ও দোয়া চাইছেন। বিদ্রোহী কেন হলেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নৌকাকে ভালোবাসি ও সমর্থন করি। কিন্তু নৌকার যিনি মাঝি হয়েছেন তাকে সমর্থন করি না আর জনগণের ভালোবাসার কারণেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঢোল প্রতীকে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় আজ অংশ নিয়েছি। ইনশাল্লাহ আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। অন্যদিকে থেমে নেই, আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রজনীগন্ধা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন স্বাধীন। এ সময় তিনি বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলাম এবার বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হব। এছাড়াও চন্দনপাট ইউনিয়নের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৯টি ওয়ার্ড চষে বেড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী রুহুল আমিন লিটন। তিনি বলেন, এবার চন্দনপাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (জাপা) জন্য খুবই উর্বর। চন্দনপাটের আমজনতা আমার সঙ্গে আছেন। অবশ্যই লাঙ্গল মার্কার বিজয় হবে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, তিনটি ইউনিয়নে ১৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে হরিদেবপুর ও সদ্যপুস্করণীতে ৫ জন করে মোট ১০ জন প্রার্থী এবং চন্দনপাটে ছয় জন রয়েছে। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৪৫টি পদের বিপরীতে ১২৭ জন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ জনের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী। আগামী ২০ অক্টোবর রংপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে।