বেগুন না ধরায় গাছ কেটে ফেলছেন চাষিরা!

দেশের অন্যতম সবজি উত্পাদনকারী এলাকা পশ্চিমের ছয় জেলায় বেগুনখেতে ফুল-ফল ধরছে না। তাই অনেক চাষি গাছ কেটে ফেলছেন। এতে বেগুনের উত্পাদন একেবারেই কমে গেছে। আর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপর জেলায় খরিপ মৌসুমে ১ হাজার ৫৫০ হেক্টরে বেগুন চাষ হয়েছে। এখন আবার নতুন করে রবি মৌসুমের বেগুন চাষ শুরু হবে।

রবিবার সরেজমিনে ঝিনাইদহ জেলার হাবিবপুর গ্রামে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বেগুনখেত। গাছগুলো সতেজ, কোনো খেতের গাছ মাথার ওপর লম্বা হয়েছে। কিন্তু বেগুন নেই। চাষি আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি অনেক দিন বেগুনের চাষ করছেন। এবারও একইভাবে চাষ করেছেন। গাছ খুবই বাড়ন্ত। কিন্তু বেগুন ধরছে না। ফুল পড়ে যাচ্ছে। অনেক চাষি গাছ কেটে ফেলছেন বলে জানান তিনি। চাষি আবেদ মণ্ডল জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। অন্যান্য বছর যেভাবে চাষ করেন এবারও একইভাবে করেছেন। কিন্তু গাছ বড় হলেও বেগুন ধরছে না, ফুল ঝরে পড়ছে। তিনি ঋণ নিয়ে বেগুন চাষ করেছেন। কিস্তির টাকা দিতে পারছেন না। চাষি খন্দকার শহিদুল ইসলামও একই কথা বলেন। এদিকে মাঠে দেখা গেছে, চাষিরা বেগুন গাছের ওপরের ডগা কেটে ফেলছেন। আবার কেউ কেউ একেবারেই কেটে অন্য ফসল চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি শামসুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায়ও বেগুন গাছ বড় হয়েছে। কিন্তু ফুল ও বেগুন ধরছে না। উত্পাদন একেবারেই কমে গেছে। বেশি বৃষ্টির জন্য এমন হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে স্থানীয় সবজি বাজারগুলোতে পাইকারি প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, বেগুন চাষ লাভজনক ছিল। বিঘাতে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন খরচের টাকাই উঠছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা জানান, এবার বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গাছের গ্রোথ বেড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।