নিত্যপণ্য নিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে

নিত্যপণ্য নিয়ে ভোগান্তি কমছে না স্বল্প আয়ের মানুষের। চাল থেকে তেল, সবজি—সবকিছুর দামই বাড়তি। এ অবস্থায় রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছে ভোক্তারা। খরচের হিসাব কাটছাঁট করেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরান বাজার, নিউ মার্কেটসহ কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০ টাকার কমে কোনো সবজি নেই। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। চালের বাজারও চড়া। গত সপ্তাহে সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিলের মালিকদের বৈঠকে মোকামে চালের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর খুচরা বাজারে দুই দফা দাম বেড়েছে। এদিকে গতকাল দাম বাড়ার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সয়াবিন, পামঅয়েল, ছোলা, আদা ও আলু। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে পণ্যগুলোর দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে।  অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে সবজির দামে!

প্রতি বছর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমলেই দাম বাড়বে—ভোক্তারা কমবেশি অভ্যস্তই ছিল। কিন্তু দাম কতটা বাড়তে পারে, আর এই চড়া দাম কত দিন থাকবে, তা জানা ছিল না। কিন্তু এ বছর সবজির দামে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে এই চড়া দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর উত্তরাঞ্চলসহ দেশের ৩৭টি জেলায় চার দফা বন্যায় ও অতিবৃষ্টিতে সবজিখেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সবজির এই চড়া দাম। যেহেতু বারবার সবজিখেত নষ্ট হয়েছে, তাই দাম আর কমেনি। গতকাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কচুরমুখী ৬০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০, মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ৪০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। ছোট মিষ্টিকুমড়ার অর্ধেক ফালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এক আঁটি পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাল শাকের ছোট্ট আঁটি ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম কমবে কবে? এ প্রসঙ্গে এই বাজারের ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ জানান, আর মাসখানেকের মধ্যে শীতকালীন সব ধরনের সবজি ওঠা শুরু করবে। তখন দাম কমবে।

দর বেঁধে দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে দুই দফা বেড়েছে চালের দাম

এদিকে সরকার দর বেঁধে দেওয়ার পর গত এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা বাজারে দুই দফা বেড়েছে চালের দাম। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে চালের দর বেঁধে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই চলতি বছরে ধানের দাম ‘বেশি’র অজুহাতে কয়েক দফা বেড়েছে চালের দাম। এখন আবার দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬২ টাকা, মাঝারি মানের চাল পাইজাম ও লতা ২ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং মোটা চাল ইরি ও স্বর্ণা কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, কিছু কিছু মিলার ধানের অবৈধ মজুত করে রেখেছেন। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু কিছু জায়গায় এই মজুতকৃত ধান বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে মিটিং করে চালের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বাজারে মনিটরিং করে খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে।