সরকার ও জনগণ যে অভিন্ন, তা আমরা অনুভব করি না -------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, সরকার ও জনগণ যে অভিন্ন, তা আমরা অনুভব করি না। সরকার থেকে যে উন্নয়ন বরাদ্দ আসে তা জনগণের সম্পদ—এ কথা ভেবে গৃহীত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা তথা কর্তব্যনিষ্ঠা থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের শক্তিশালী হতে হবে। তিনি গতকাল সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষিমেলা উদ্বোধনী  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই কৃষি প্রদর্শনী করি। বাংলাদেশ যখন প্রথম সৃষ্টি হয়, তখন বঙ্গবন্ধু কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এরপর একটি বাড়ি একটি খামারসহ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আমরা সফল করে চলেছি। বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। খাদ্যে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, এখন আমাদের দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত। অতীতে দেশ বেচে মানুষ বাঁচানোর যেসব বিতর্কিত উক্তি করে সরকার বিশেষের মন্ত্রীরা সংসদে নিন্দার সম্মুখীন হয়েছিলেন, সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। স্বাধীনতার পর জাতীয় বাজেট ছিল ২ হাজার কোটি টাকা, আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি পরাধীন আমলের চিন্তাভাবনা নিয়ে স্বাধীন                 দেশে বসবাস করি বা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা ভাবি, তা অবশ্যই অনভিপ্রেত। দেখা যায়, অনেক জনপ্রতিনিধি বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরাধীন আমলের মতো আচরণ করছেন। তাদের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। বরাদ্দকৃত সম্পদের ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অর্ধেকের কম হয় বলে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কন্ট্রাক্টর, সাব কন্ট্রাক্টর, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় সরকারি বরাদ্দে অপচয় হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে জাতীয় সম্পদ। এ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশে লেখা-পড়ার সুযোগ, কর্মসংস্থান বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। গত ৩৬ বছরে আমরা এ এলাকার অবকাঠামো, বিশেষ করে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিদ্যুত্ ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজ করার চেষ্টা করেছি। আগামী ১০০ বছর পরও এ জাতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের চাহিদা মানুষের কাছে থেকে যাবে। তাই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের এগোতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন এলাকার মানুষের ঐক্য।’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ভালো কাজ করতে হবে, নিজেদের কাজটা যারা ঠিকভাবে করে তাদের সবাই ভালো বলে। দেশের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে কোনো খারাপ চিন্তা করা কাম্য নয়। সঠিক নেতৃত্ব ও শুভবুদ্ধি থাকলে সে এলাকার উন্নয়ন অবশ্যই সাধিত হবে। আমাদের নিয়ত ভালো। বিগত ৩৬ বছরে এই এলাকায় যে সত্ নিয়ত, চিন্তা-কথা-কাজে নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা প্রদর্শনে আমরা সচেষ্ট ছিলাম তা অবশ্যই মানুষ উপলব্ধি করে। যারা ধৈর্যশীল ও ইমানদার লোক তারা প্রথমে বেহেশতে যাবেন। তাই ইহকাল ও পরকালের কথা ভেবে আমাদের সকলের কাজ করা উচিত।’ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আয়োজিত কৃষিমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।      

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মত্ খালেদা খাতুন রেখার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস শহিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজীম শরীফ প্রমুখ। 

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল সোমবার বিকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একাডেমি ভবন, শিয়ালকাঠি দারুল সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবন, চিড়াপাড়া ইউনিয়নের নিলতী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত একাডেমি ভবন এবং কাউখালী কেন্দ্রীয় আলিম মাদ্রাসার চারতলা ভিতবিশিষ্ট একাডেমি ভবনের নির্মাণকাজ পৃথকভাবে পরিদর্শন করেন।

তিনি সন্ধ্যায় কাউখালী উপজেলা পরিষদ পুকুরে মত্স্য অফিসের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এরপর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আয়োজিত কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার হাদিয়া, শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার মো. দেলোয়ার, চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা চাঁদ, সয়না-রঘুনাথ ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ, জেলা পরিষদের সদস্য শাহজাদী রেবেকা ইয়াসমিন চৈতী প্রমুখ। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, যুগ্ম-সম্পাদক সুনীল কুণ্ডু, উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল প্রমুখ।