বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার মামলার এজাহার সমর্থন করে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী আবরারের বাবা মো. বরকতউল্লাহ। অশ্রুসিক্ত নয়নে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে ছয় ঘণ্টা ধরে নির্মম ও অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। আমার ছেলে পানি পর্যন্ত খেতে চাইলে তারা দেয়নি। আমি আদালতের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে ছয় জন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেন। এর আগে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামিদের চিহ্নিত করেন তিনি। বরকতউল্লাহর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো। আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্য সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। এ সময় সাক্ষীদের জেরাও চলবে।
গতকাল বেলা ১২টায় মামলার এজাহারের সমর্থনে মো. বরকতউল্লাহ প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে বরকতউল্লাহ বলেন, আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। আমার ছেলে আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র ছিল। থাকতো শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর রুমে। গত বছর ৭ অক্টোবর ফজরের সময় ফোনে জানতে পারি যে, আমার ছেলেকে বুয়েটের কতিপয় ছাত্র মারধর করে গুরুতর জখম করেছে। সংবাদ পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে শেরেবাংলা হলের কতিপয় ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করি। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানতে পারি, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেলসহ ২০/২২ জন ছাত্র (নাম উল্লেখসহ) গত বছরের ৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ডেকে নেয়। রাত ৮টার মধ্যে শেরেবাংলা হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প, লাঠিসোঁটা এবং রশি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড মারধর করে। নির্মম এই নির্যাতনের ফলে আমার ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আসামিরা আমার ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে ফেলে রাখে। পরবর্তী সময়ে কতিপয় ছাত্র সেখান থেকে আমার ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আমি থানায় মামলা করি। সাক্ষ্যে তিনি বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই আসামিরা আমার ছেলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পরবর্তী সময় তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারি, আসামি সকাল, রবিন, অনিক, মনির, জিয়ন, মুজাহিদ, তানভীর ও সাদাত গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে আসামিরা আমার ছেলে আবরারকে কীভাবে হত্যা করেছে তা বিস্তারিত বলেছেন।