ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, থানায় মামলা 

আবারও খুলনার ডুমুরিয়ায় বহুল আলোচিত চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নবজাতকের পিতা হেলাল উদ্দিন গাজী বাদী হয়ে ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেনের নাম উল্লেখসহ ৬-৭ জনের নামে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর ক্লিনিকে তালা দিয়ে মালিকসহ সকলে আত্মগোপন করেছেন। 

থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. হেলাল উদ্দীন গাজীর স্ত্রী ইয়াসমিন বেগমের (২০) প্রসব বেদনা দেখা দিলে চুকনগরস্থ চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ক্লিনিক মালিক আবুল কালাম প্রসূতিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। নবজাতকের পিতাকে জানানো হয় তার শিশু পুত্রের অবস্থা বেশি ভালো না। দ্রুত শিশুটিকে ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্স যোগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে শিশুটি মারা যায়। 

নবজাতকের পিতা জানান, শিশুটির মাকে অস্ত্রোপচার করে (সিজার) শিশু বের করার সময় অদক্ষতার কারণে শিশুটির নাভির কাছে ছুরির আঘাতে কেটে শিশুটির পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে পড়ে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সুপার গ্লু দিয়ে আটকিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটিকে নিয়ে ক্লিনিকে ফিরে এসে মৃত্যুও কারণ জানতে চাইলে চুপচাপ বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। এর পর তিনি ডুমুরিয়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। তদন্ত শেষে সোমবার ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, উক্ত ক্লিনিকে ইতিপূর্বে অনেক শিশু ও প্রসূতির মৃত্যু ঘটেছে। মামলা হলেও অদৃশ্য কারণে আবারও তিনি বেরিয়ে পড়েন। 

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ক্লিনিক মালিক কামাল হোসেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স ছাড়াই চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে থাকেন। বিষয়টি জানতে কামাল হোসেনের নিজস্ব মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার এক ঘনিষ্ঠজন জানায় জরুরি কাজে তিনি খুলনায় গেছেন। 

আরও পড়ুন: রিফাত হত্যা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামিদের বিপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সুফিয়ান রুস্তম বলেন, ‘চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোমে একটি নবজাতক মারা গেছে বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘চুকনগর হালিমা মেমোরিয়াল নার্সিং হোমে এক প্রসূতির নবজাতক মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ‘মামলা দায়ের পর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

ইত্তেফাক/এএএম