বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

মো.কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল

জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা

 

 

চন্দ্রবিন্দু ( ঁ)-এর ব্যবহার (পর্ব ১)

 

বাংলা বর্ণমালাতে ৫০টি বর্ণের মধ্যে চন্দ্রবিন্দু অন্যতম। এটি পরাশ্রয়ী বর্ণ। এটি স্বরধ্বনির অনুনাসিক বা নাকি উচ্চারণে সাহায্য করে।

১১টি স্বরবর্ণের মধ্যে ৬টি স্বরবর্ণে (অ, ঈ, ঊ, ঋ, ঐ, ঔ) চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার নেই। অর্থাত্, মাত্র ৫টি স্বরবর্ণে (আ, ই, উ, এ, ও) চন্দ্রবিন্দু ব্যবহূত হয়। এছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে ‘অ্যা’ স্বরধ্বনিতেও চন্দ্রবিন্দু ব্যবহূত হতে পারে।

৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে ১২টি ব্যঞ্জনবর্ণে (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম, ড়, ঢ়, ল, ত্, ং, ঃ,  ঁ) চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার নেই। অর্থাত্, ২৭টি ব্যঞ্জনবর্ণে চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া যুক্তব্যঞ্জনে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহূত হয় না।

তত্সম বা সংস্কৃত শব্দের নাসিক্যবর্ণ ছেড়ে চন্দ্রবিন্দু-সহ বাংলাতে তদ্ভব শব্দের রূপ ধারণ করে। সুতরাং, কোনো শব্দে চন্দ্রবিন্দু থাকলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়—শব্দটি অতত্সম ।

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণত কোনো শব্দে ঈ, ঈ-কার, ঊ, ঊ-কার, ঋ, ঋ-কার, ক্ষ, ছ, ণ, য, য-ফলা, ষ, বিসর্গ (ঃ) বর্ণ থাকলে সেটা তত্সম শব্দ ধরে নেওয়া যেতে পারে । সুতরাং, উল্লিখিত বর্ণ দ্বারা গঠিত শব্দগুলোতে সাধারণত চন্দ্রবিন্দু ব্যবহূত হয় না। [ব্যতিক্রম কয়েকটি শব্দ ব্যতীত]

 

এ ছাড়াও তত্সম উপসর্গ ও তত্সম প্রত্যয়যুক্ত শব্দে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহূত হয় না।

 

চন্দ্রবিন্দুর অবস্থান

চন্দ্রবিন্দু সাধারণত শব্দের প্রথম বর্ণে অবস্থান করে। যেমন : বাঁধন [<বন্ধন], চাঁদ [<চন্দ্র] ইত্যাদি।

তবে, সমাসবদ্ধ ও অতত্সম কিছু শব্দের মধ্যাংশে এবং বিদেশি কিছু শব্দের শেষাংশে চন্দ্রবিন্দু বসে। যেমন : নিখুঁত, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।