মাহদীর ক্রিয়েটিভ ‘এ্যাশেন্সি’

>> তানজীব রুবায়েত

 

মুনতাসির রহমান মাহদী আশুগঞ্জ সারকারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন প্রায় ছয় বছর আগে। তারপর সিলেটে নিজের হোমটাউনে গিয়ে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন, সিএসই নিয়ে। কিন্তু প্যাশনের টানে কাজ শুরু করেন ব্যবসা এবং মার্কেটিং নিয়ে।

প্রথম পাঁচটা ব্যবসার একটিতেও তিনি লাভের মুখ দেখেননি। কিন্তু তিনি নিজের প্যাশনকে ছাড়তে পারেননি। পুরোদমে ছয় নম্বর ব্যবসায় পা দেন। শুরু হয়, ‘এ্যাশেন্সি’ নামক সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক ক্রিয়েটিভ অ্যাজেন্সির পথযাত্রা। এজেন্সির ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং, গ্রাফিক্স এবং ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের সেবাগুলো নিতে পারেন অ্যাশেন্সির ফেসবুক পেজ www.fb.com/ashencyagency থেকে।

ইত্তেফাকের প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত আলাপে মাহদী তার কাজগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আমার ছয় নম্বর ব্যবসাটা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটিভ এজেন্সি এ্যাশেন্সি’র। এছাড়াও আমি আমার ওয়েবসাইটে (www.muntasirmahdi.com) প্রায় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে খুবই অল্প খরচে ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্যবসা এবং সেলস নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই এখন নিজেদের ব্র্যান্ড, ব্যবসা এবং ফ্রিল্যানিন্সং করে বেশ ভালোই আয় করছে। এছাড়াও খুব শিগগিরই আরো বেশ কিছু প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রধান বাধাগুলো কী  আর সেটা থেকে উত্তরণের উপায় কী?— এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের অনেকগুলো বাধা পেরিয়েই একটা নতুন উদ্যোগ নিতে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় যে বাধাগুলো দেখা যায়, সেগুলো হচ্ছে সঠিক টিমগঠন না করতে পারা এবং সাপোর্ট না পাওয়া! যদি আপনার আইডিয়া ভালো হয় এবং আপনি ও আপনার টিম যদি সেটাকে ইম্পলিমেন্ট করার মতো দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার আইডিয়াতে মানুষ বিনিয়োগ করবে। তাই অর্থটাকে আমি তেমন বড় একটা সমস্যা হিসেবে দেখি না। আর ‘সাপোর্ট না পাওয়া’ বিষয়টা বেশ জটিল। পজিটিভ মাইন্ডসেট না থাকার কারণে আমাদের মধ্যে সাপোর্ট দেওয়া-নেওয়ার একটা বড় সমস্যা দেখা যায়।

পজিটিভ মাইন্ডসেট নিয়ে মুনতাসির মাহদী বেশ জোরালো ভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নিজের মধ্যে থাকা পজিটিভিটি নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিত্যনতুন কন্টেন্ট তৈরি করে যাচ্ছেন। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন এমনকি টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকেও তিনি পজিটিভিটি ছড়াতে ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান থেকে একজন উদ্যোক্তা কী ধরনের সহায়তা পাচ্ছে?— এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সামাজিক অবস্থান থেকে বললে, আমি এক কথায় বলব, যতটুকু পাওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটুকু পাচ্ছে না। অবশ্য এটাতে আমাদের দোষটাই-বা কোথায়! আমরা জন্মগতভাবেই সেফজোনে থেকে খেলতে পছন্দ করি। কিন্তু আমরা এই সহজ কথাটা ভুলে যাই যে, কমফোর্ট জোনের বাইরে গেলেই যে কোনো খেলায় রোমাঞ্চ আসে! আর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ছাড়া জয়ী হওয়াতে নিজের ক্রেডিট থাকে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই চাই যেন আমাদের আশেপাশের মানুষগুলো আমাদের কাজগুলোতে সাপোর্ট করে। কিন্তু যখন সেই সাপোর্ট আমাদের পাওয়া হয় না, তখনই আমরা ডিপ্রেশনে পড়ে যাই এবং ভেঙে পড়তে বাধ্য হই। তাকে ‘পজিটিভিটির’ আসল মানে কী—জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার মতে পজিটিভিটি মানে সবকিছুতে ধনাত্মকতা খুঁজে বেড়ানো। আমি যে কোনো সমস্যাতেই সেটার ধনাত্মক দিকটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। আর এই ধনাত্মকতা প্র্যাকটিসের ব্যাপার!