পৃথিবীর সকল জীব একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অন্যের ওপর এই নির্ভরশীলতার নাম বাস্তুতন্ত্র। বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটি প্রাণ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ভেতর কোনো একটির অস্তিত্ব বিলীন হলে বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য উপাদানও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হতে বাধ্য।
প্রতি বছর আশঙ্কাজনক হারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার প্রধান কারণ হচ্ছে দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন। দিন দিন বনাঞ্চলের আয়তন হ্রাস পেয়ে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পাখিদের আবাসস্থলেরও সংকট দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখির অবস্থা সংকটাপন্ন। তাই প্রাণীকুলে বড়সড় সংকট আসার আগেই প্রকৃতিতে পাখির গুরুত্ব আমাদের বুঝতে হবে। পাখি মানুষকে শুধু আনন্দ ও বিনোদন দেয় না, তারা আমাদের আর্থসামাজিক কাজে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। পাখিদের কিছু প্রজাতি ইঁদুর, সাপ, পোকামাকড় খেয়ে খাদ্য উত্পাদনে সহায়তা করে। গৃহপালিত পাখি আমাদের আমিষের জোগান দেয়। এছাড়া পাখি ময়লা, পচাগলা, আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে নানাভাবে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রকৃতিতে পাখিদের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মানুষকে সামাজিক বনায়ন তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সবুজ বনায়নের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক বন ও অভয়ারণ্য রক্ষায় সরকার এবং স্থানীয়দের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাব।
নাজমুস সাকিব খান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া