নানা কৌশলে সবখানে আলোচনায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর বাকি ২৮ দিন। করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের নির্বাচনে সরব প্রচারণা নেই। রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার প্রচার টিমের প্রায় সকলেই করোনায় আক্রান্ত। তাদের কেউই এখন প্রচারের মাঠে নেই। কিন্তু নানান কৌশলে সবখানে-সারাক্ষণ আলোচনায় ট্রাম্প। তার সমালোচকেরা বলছেন, অর্থ ব্যয় না করে কীভাবে আলোচনায় থাকা যায়, সে কৌশল বেশ ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট। যদিও জনপ্রিয়তার বিচারে এখনো এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় দুই প্রেসিডেন্টের প্রথম বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বিতর্ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এটি। বিশেষ করে জো বাইডেনকে কথা বলতে না দেওয়ার বিষয়টি সর্বত্র সমালোচনা হয়। বাইডেন যখন আলোচনায়, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বিতর্কের পরদিনই করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে তার শরীরে। পরে তার নির্বাচনি প্রচার টিমের ১১ জনের শরীরেও মিলেছে ভাইরাসটি। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন ট্রাম্প। আবার পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন তিনি।

করোনা ধরা পড়া, হাসপাতালে ভর্তি এবং বাসায় ফিরে যাওয়াসহ প্রায় প্রতিটি ঘটনা বিশ্ব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়। প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের আগে ট্রাম্পের ৭৫০ ডলারের ব্যক্তিগত আয়কর দেওয়া এবং বিতর্ক অনুষ্ঠানের আচরণ চাপা পড়ে গেছে মুহূর্তেই। এমনকি তার প্রতি তৈরি হয়েছে মানুষের সহানুভূতি। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ট্রাম্পের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যে প্রচারণা চলছিল তাও বন্ধ করে দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জো বাইডেন।        তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য। অর্থ ব্যয় করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে বিজ্ঞাপন প্রচার চলছিল, তা-ও বন্ধ হয়ে যায় মুহূর্তেই। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের নানান কৌশলের কাছে পরাস্ত হচ্ছে ডেমোক্রেটিক রাজনীতি। সর্বশেষ ট্রাম্পের করোনা আক্রান্তের ঘটনাটি একটি কৌশল ছিল, মাঠ পর্যায়ের প্রতিপক্ষের সমর্থকরা এমনটিই বলছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) গাইডলাইন অনুসারে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ ৭৪ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েও মাত্র তিন দিন পর বাসায় ফিরেছেন। হাসপাতালে থেকে ওভাল অফিসের জন্য কাজ করেছেন। হোয়াইট হাউজে ফিরেই তিনি মুখের মাস্ক খুলে ফেলেন। যে ভাইরাস দেশটির ২ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ৯টি রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, অথচ ট্রাম্প বাসায় ফিরেই মুখ থেকে মাস্ক খুলে বেপরোয়াভাবে বলেই ফেললেন, ‘করোনা ভাইরাসকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’ এর মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে একজন করোনাযোদ্ধা হিসেবে আবিষ্কার করতে চেয়েছেন। চিকিত্সকদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল নন।

সিএনএন এক জরিপে জানিয়েছে, ট্রাম্প তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বরাবরই দায়িত্বহীন ছিলেন। তিনি হোয়াইট হাউজে থেকে করোনার ব্যাপারে অবিশ্বাস্য অভিনয় করেছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গত ছয় মাসে ট্রাম্পের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন যে, তারা প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউজের কাছ থেকে যা শুনেছেন, তার মধ্যে খুব কমই ভরসা করেছেন। মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন যে, তারা এর প্রায় সবটিতেই আস্থা রেখেছিলেন।

এদিকে আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাইডেনের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিতর্ক। এটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের মিয়ামি আদ্রিয়ান পারফরমিং অব আর্টস সেন্টারে। সি-স্প্যানের পলিটিক্যাল এডিটর স্টিভ স্কালি এদিন সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকবেন।