বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। আপিলে মৃত্যুদণ্ডের ঐ রায় বাতিল করে তাকে খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এতে ২০টি আইনগত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দাখিল করেন তার আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। বিচারিক আদালত রিফাত হত্যা মামলার রায়ে আপিল করার জন্য আসামিদের সাত কার্যদিবস সময় দিয়েছিল। রায় পাওয়ার পর ঐ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আপিল দায়ের করলেন মিন্নি। এদিকে এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি রায়ের কপি পেয়েছে। ঐ রায় পর্যালোচনা করছেন তাদের আইনজীবীরা। রায় পর্যালোচনা শেষে এক-দুই দিনের মধ্যে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা আপিল দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।
মিন্নির প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্না ইত্তেফাককে বলেন, এই হত্যা মামলার তদন্ত ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে। আর সেই বিচারে মিন্নির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপিল শুনানিতে আমরা রায়ের ত্রুটিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব। আমরা আশাবাদী, আইনের আলোকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মিন্নি বেকসুর খালাস পাবে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ এলাকায় দিনে-দুপুরে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল তরুণ। এই নয়ন ছিল ‘০০৭’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। বরগুনা শহরে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় নয়ন ও রিফাত ফরাজীরা মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পর মামলার প্রধান আসামি নয়ন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।