এক পক্ষের শোকজ আরেক পক্ষ বলছে ‘অবৈধ’

দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পরেও বিতণ্ডা থামেনি গণফোরামে। এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে বর্ধিত সভা ডাকায় অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও জগলুল হায়দার আফ্রিককে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে দলটির আহ্বায়ক কমিটি। অপরদিকে, এ নোটিশকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নোটিশপ্রাপ্তরা।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গণফোরামের নামে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ইতিপূর্বেও আমাদের নজরে এসেছে। তাদেরকে বিধিসম্মতভাবে দল থেকে বহিষ্কার করে গণফোরাম যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এখন আবার বহিষ্কৃতদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কয়েক জন গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে দলের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে গঠনতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরো কয়েক জন সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর তাদের সম্পর্কে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার এখতিয়ার গণফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির রয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি গণফোরামের রাজনীতি ত্যাগ করে নতুন রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু গণফোরামের নামে অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণফোরামকে বিব্রত করার এখতিয়ার কারো নেই।’

ড. রেজা কিবরিয়া জানান, বিধিসম্মতভাবে দল থেকে বহিষ্কার করতে চার জনকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে আরো সাত দিন অপেক্ষা করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, মোস্তফা মহসীন মন্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সুব্রত চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ড. রেজা কিবরিয়াসহ চার কুচক্রী গণফোরামকে গণতন্ত্রহীন ও স্বেচ্ছাচারী দলে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। বিতর্কিত ও গণফোরাম থেকে বহিষ্কৃত জনৈক আইনজীবীর গুলশানের চেম্বারকে গণফোরামের ভুয়া অফিস দেখিয়ে ড. কামাল হোসেন ও ড. রেজা কিবরিয়ার নামে যে বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি।’

এই তিন নেতা বিবৃতিতে আরো বলেন, গণফোরামের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কোনো বিধান নেই। বর্ধিত সভায় গণফোরাম থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত কোনো ব্যক্তির নামে প্রচারিত এ আহ্বায়ক কমিটি কোনো রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা কোনো নেতা বা সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। এ ধরনের কার্যক্রম স্বেচ্ছাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তারা বলেন, এ চক্রটি ড. কামাল হোসেনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে দুরভিসন্ধি ও ড. কামাল হোসেনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।