প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি সংযোজন এবং স্বাক্ষর জাল করে টঙ্গিবাড়ীতে ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংক, দিঘীরপাড় বাজার শাখা থেকে একই কায়দায় একই ব্যক্তি অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন সময় অন্তত ৩০ জনের নামে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তার মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট নিরীহ ব্যক্তিদের ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ীর দিঘীরপাড় বাজারের অদূরে অবস্থিত বেশনাল গ্রামের বাসিন্দা জামাল মুন্সী ইউনিয়ন পরিষদের কার্ড করিয়ে দেওয়ার নাম করে কৌশলে এলাকার অন্তত ৩০ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। পরে তাদের স্বাক্ষর জাল করে দীঘিরপাড় বাজার, অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে ঐ ৩০ জনের নামে কৃষিঋণ পাশ করিয়ে এবং ভুয়া হিসাব খুলে তা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় নিজেই তুলে নেন। সম্প্রতি তিনি মারা যাওয়ার পর ঋণ আদায়ে নড়েচড়ে বসেন ব্যাংকের বর্তমান কর্মকর্তারা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা ফারুক হোসেন গত ১৬ জুলাই কামারখাড়া ইউনিয়নের বেশনাল গ্রামে গিয়ে নূরুল হক মৃধার স্ত্রী জাহানারা বেগমকে তার নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধে তাগিদ দেন। ঋণ না নিয়েও তা পরিশোধের এমন তাগিদে মুষড়ে পড়েন ঐ নারী। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকে গিয়ে তিনি যাচাই করলে বিষয়টি জালিয়াতি বলে প্রমাণিত হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, প্রয়াত জামাল মুন্সীর ছেলে মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বাবার নেওয়া ঋণ পরিশোধের আশ্বাস দেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জামাল মুন্সী নিজের নামের জমির পর্চা জমা দিয়ে জাহানারা ও অন্যদের বর্গাচাষি পরিচয়ে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংযোজন করেন। তাতে ছবি ও পরিচয়পত্রের মালিকদের নামে ঋণ অনুমোদন হয়। সেই প্রক্রিয়ায় জাহানারা বেগমের নামে অনুমোদন হয় ৪০ হাজার টাকা। একইভাবে ঋণ না নিয়েও প্রতারণার জালে জড়িয়ে পড়েন অন্যরা। এই ঋণ অনুমোদনের সময় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী তত্কালীন সিনিয়র অফিসার আতাউর রহমান বর্তমানে অবসরে রয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ৩০ জনের নামে ঋণ দেওয়া হয়েছে এই শাখা থেকে, যার দায়দায়িত্ব জামাল মুন্সীর। ঐ কর্মকর্তা আরো জানান, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দিঘীরপাড় শাখায় বর্তমানে কৃষিঋণ প্রদান বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত প্রিন্সিপাল অফিসার মহিউদ্দিন ইসলাম এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি। তবে এ ব্যাপারে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।