খালে মিলেছে ভাঙা ফ্রিজ টায়ার সুটকেস চেয়ার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে পাওয়া গেছে পরিত্যক্ত ভাঙা ফ্রিজ, গাড়ির টায়ার, সুটকেস, চেয়ার, পানির বোতল এবং ডাবের খোসা। নগরবাসীর ফেলা এসব আবর্জনায় ভরে গেছে খালগুলো। গতকাল বুধবার মিরপুরে গোদাবাড়ি খালপাড়ে এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন করে ডিএনসিসি। এতে রাজধানীর প্রায় ৯টি খাল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন খাল থেকে উদ্ধার হওয়া নগরবাসীর ফেলা আবর্জনার তালিকা তুলে ধরে জানান, প্রায় ৯টি খাল থেকে শতাধিক জাজিম, ২০০ ট্রাক ডাবের খোসা, টিভির বাক্স, বালিশ, ভাঙা ফ্রিজ, সুটকেস, ভাঙা চেয়ার এবং কমোড উদ্ধার করা হয়েছে। খাল, ডোবা-নালা ইত্যাদি অপরিষ্কার পাওয়া গেলে ২০ অক্টোবর থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে এডিস মশা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছি এবং জরিমানা করেছি, একইভাবে আসন্ন শীত মৌসুমে নগরবাসীকে কিউলেক্স মশা থেকে সুরক্ষা দিতে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে আমরা ডিএনসিসি এলাকার খাল, ডোবা-নালা ইত্যাদি পরিদর্শন করব। সেই খাল, ডোবা-নালা পরিষ্কার অবস্থায় পাওয়া না গেলে আমরা জরিমানা করব। সরকারি, বেসরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন যে কোনো সংস্থাই হোক না কেন ছাড় পাবে না।’ একই সঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সবাইকে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।  

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে খাল ব্যবহার করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট লাইন হচ্ছে। অথচ এটা খুবই দুঃখজনক আমাদের খালগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে, খালের ওপর বাড়ি, মাঠ হচ্ছে। এ খাল নিয়ে সবাই ব্যবসা করছে। আমরা খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু খাল পরিষ্কার করার কথা আমাদের ছিল না। খাল পরিষ্কার করার কথা অন্য একটি সংস্থার। তারপরও আমরা, আমাদের কাউন্সিলররা মনে করেছি সবাই মিলে খাল পরিষ্কার করতে হবে। তাই আমি কোনো দিকে না তাকিয়ে, আমাদের এলাকার খাল আমরা কারো জন্য বসে না থেকে নিজেরাই পরিষ্কার করছি।’ তিনি নগরবাসীকে  খাল দখল ও এতে আবর্জনা না ফেলার  জন্য অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, ডিএনসিসি কর্তৃক বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন ১৬টি খাল ও লেক পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রতিদিন ৫১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এ কাজে নিয়োজিত বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।