প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে এ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মঞ্জুর রহমান (২৬) নামে এক লম্পট যুবক। গৃহবধূর বিবস্ত্র ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন ঐ গৃহবধূ।
লোক লজ্জার ভয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার পর এলাকায় ১ শুরু হয়েছে। ঘটনার ন্যায় বিচার না পেয়ে এবং লোক লজ্জার ভয়ে আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছেন অসহায় প্রবাসীর স্ত্রী। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
আজ বুধবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র ও প্রতারণার শিকার প্রবাসীর স্ত্রী জানায়, আমার স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর বখাটে পুত্র মঞ্জুর রহমান তাকে নানা ভাবে উত্ত্যক্ত ও ১ দিয়ে আসছিল। তিনি বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখাতো। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়িতে গিয়ে গোপনে কৌশলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে।
ঘটনার পরে বিবস্ত্র ভিডিও এবং ছবি ফেইজবুকে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক বছরের ব্যবধানে তার নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গৃহবধূ অভিযোগ করেন। গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে বখাটে মঞ্জুর রহমান প্রবাসী ও তার স্ত্রীর নিকট ৬ লাখ টাকা দাবী করে। টাকা না দিলে বিবস্ত্র ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেয়। টাকা না দেওয়ায় বখাটে মঞ্জুর রহমান গৃহবধূর বিবস্ত্র ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল করে দেয়। সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পরেন গৃহবধূ। বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও দেখে অবশেষে স্বামীর বাড়ি থেকে এক সন্তান নিয়ে বিতাড়িত হন।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে হাড়িয়া গ্রামে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলে লম্পট মঞ্জুর রহমানের শাস্তি হয় এবং সে আর এ ঘটনায় জড়িত হবে না বলে অঙ্গিকার করে। ঘটনার কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার সে গৃহবধূর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দেয়। গ্রাম্য বিচারে মাতাব্বর শাহীন, ফিরোজ আল মামুন, হেলাল উদ্দিন এবং জাহাঙ্গীরসহ আর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলে গৃহবধূ জানিয়েছেন।
এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, ন্যায় বিচার চেয়ে প্রথমে মির্জাপুর থানায় মামলা করতে এলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেননি। নিরুপায় গত ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর থানা আমলী আদালতে প্রতারক মঞ্জুর রহমানকে আসামী করে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১) (২) ও (৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর প্রতারক মঞ্জুর রহমান ও তার সহযোগীরা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবারকে হত্যাসহ নানা ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আজ বুধবার এই প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে লম্পট ও বখাটে মঞ্জুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণেই আপত্তিকর অবস্থায় বিবস্ত্র ভিডিও এবং ছবি তুলেছি। আমার মোবাইলে ভিডিও এবং ছবি ছিল। কিন্ত আমি ভিডিও এবং ছবি ভাইরাল করিনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য কে বা কারা আমার মোবাইল থেকে ভিডিও এবং ছবি ফেইজবুক থেকে হ্যাক করে নিয়ে ভাইরাল করে দিয়েছে। এখন আমি ফেঁসে গেছি।
অপর দিকে অসহায় গৃহবধূ. তার মা মালেকা বেগম, খালা আছমা বেগম ও ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম রফিক প্রতারক ও বখাটে মঞ্জুর রহমানকে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছেন।
এ ব্যাপারে ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। কোর্টে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করছেন বলে উল্লেখ করেন।
মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী ও মঞ্জুর রহমান নামে যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কারণে আপত্তিকর অবস্থার বিবস্ত্র ছবি ভাইরাল হয়েছে। গৃহবধূ পর্নোগ্রাফী আইনে মামলা করেছেন। কোর্ট থেকে মামলার তদন্ত চেয়েছেন। তদন্ত কাজ চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে লম্পট যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসআই