জানা-অজানা

ভাসমান বীজতলা

জলাবদ্ধ এলাকায় পানিতে ভেসে থাকার উপযোগী এক ধরনের বিশেষ বীজতলা তৈরি করা হয়, যা ভাসমান বীজতলা নামে পরিচিত। মূলত পানিতে জন্মানো ভাসমান আগাছা, টোপাপানা, শ্যাওলা ও কচুরিপানাগুলো স্তরে স্তরে সাজিয়ে এ বীজতলা তৈরি করা হয়। এটি বন্যা, অতিবৃষ্টিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ক্ষতি পুষিয়ে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যুগোপযোগী কৌশল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষত পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জে এই বীজতলা দেখা যায়।

বীজতলা তৈরির জন্য প্রথমে কাঁচা কচুরিপানা পচিয়ে ৫ ফুট চওড়া ও ১৫০-২০০ ফুট লম্বা বেড তৈরি করে তা লতা দিয়ে বেঁধে নিতে হয়। বীজাধার তৈরির পর রোপণ করতে হয় অঙ্কুরিত বীজ। কচুরিপানা বা টোপাপানা কম পাওয়া গেলে খড়কুটা, ধানের নাড়া, ছোবড়া পচিয়েও তৈরি করা যায়।

ভাসমান এ পদ্ধতিতে বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা ও শাকসবজি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। তাছাড়া সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তাই খরচ অনেক কম। এ পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া, বেগুন, টমেটো, শশা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, ঢেঁড়স চাষ করা যায়।