জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমরা বিভেদের রাজনীতি করি না। বিগত ৩৬ বছর দক্ষিণাঞ্চলে আমি সব সময় মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপনের কথা বলে এসেছি। আমাদের এই আদর্শিক অবস্থানের কারণে যে দল যখন ক্ষমতায় থাকুক না কেন এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি গতকাল বুধবার বিকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের জুনিয়া বাজারস্থ জাতীয় পার্টি-জেপির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, যারা ঢাকায় থাকেন তারা বরাবর বলে এসেছেন নদীমাতৃক দক্ষিণাঞ্চলে কীভাবে রাস্তা-ঘাট-সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। যেখানে ১ মাইল রাস্তা করতে সাতটি কালভার্ট করতে হয় সেখানে যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তার পরও এই দুরূহ কাজ আমরা সম্পাদন করে চলছি। বিশ্বে এখন অর্থের অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব। ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য সম্পদের অভাব এ সবকিছু মোকাবিলা করে এ দেশে কাজ করতে হয়। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা চালাতে তাদের সমস্যা অনুধাবন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন আমি কেন বারবার এলাকায় ছুটে আসি। মানুষের সমস্যা শুনতে হয়, তারপর সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আগে মানুষ রাস্তা-ঘাট চাইত, এখন কর্মসংস্থান চায়। এসব চাহিদা মেটাতে হলে ঝগড়া-ফ্যাসাদ, কাইজ্জ্যা-কলহ বাদ দিতে হবে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করে দেশের আগামী নেতৃত্ব দানের উপযোগী করতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, আমি আমার তিন যুগে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছি। স্বৈরাচারের সরকারে ছিলাম, শেখ হাসিনার কেবিনেটে বারবার মন্ত্রী ছিলাম। কখনো মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি, গালাগালি-কটূবাক্য প্রয়োগ করিনি। স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্য থাকে মানুষের সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণ করা। কিন্তু আমরা সচেতনভাবে এসব রূঢ়তা পরিহার করে চলেছি। সব সময় বলে আসছি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যিনি যে দলই করুক না কেন কাজের প্রয়োজনে এক থাকতে হবে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জননেতা মরহুম মোহাম্মদ নাসিম যখন ভাণ্ডারিয়ায় এসেছিলেন তখন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন যার নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পিরোজপুর জেলা হাসপাতালকে ভাণ্ডারিয়ায় বসেই ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন মন্ত্রী, যার নির্মাণকাজও চলছে। অথচ এই ঘোষণা তাকে জেলা শহরে বসে নয়, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা শহরে বসে দিতে হয়েছিল পিরোজপুরের নেতৃত্বের অনৈক্যের কারণে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় পার্টি-জেপির জুনিয়া শাখার উদ্বোধন শেষে দোয়া-মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা এমদাদুল হক।
এরপর তিনি জাতীয় পার্টি-জেপির সাবেক উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং তেলিখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ শাহদাত হোসেনের কবর এবং তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের কবর পৃথকভাবে জিয়ারত করেন। বিকালে তিনি ভাণ্ডারিয়ার পৌরসভার ৩ নম্বর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজের পৃথকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মত্স্য অফিসের উদ্যোগে বন্দরে রিভার্জ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার ও টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিকের মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার।
এরপর ভাণ্ডারিয়া শাহবুদ্দিন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ, ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের ছয়তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ, ভাণ্ডারিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ, ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা বিদ্যালয় চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন এবং শিয়ালকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এ ছাড়া চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কে হেতালিয়া ব্রিজ ও মাদার্শী ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ইকড়ি ইউনিয়নের বোথলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী জিসি-তুষখালী জিসি (হরিণপালা কঁচা সংযোগ) সড়কে ৭৪ মিটার দৈর্ঘ্যের নবনির্মিত আরসিসি গার্ডার ব্রিজের শুভ উদ্বোধন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহরাজ, ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, ইউএনও নাজমুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জমাদ্দার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান, উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির, পৌর কাউন্সিলর মানিক হাওলাদার প্রমুখ।
তার সফর সঙ্গী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম হাওলাদার, ভাণ্ডারিয়া পৌর জেপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মিয়া স্বপন, জেপি নেতা সফিকুল ইসলাম খোকন সিকদার, শাহরিয়ার হোসেন দুলাল মল্লিক, রিপন মীর্জা, উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার ও সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ সরদার, ছাত্র সমাজের উপজেলা আহ্বায়ক সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার ও সদস্য সচিব জহির উদ্দিন অন্তু সরদার, পৌর আহ্বায়ক মাহবুবুর রশীদ শুভ প্রমুখ।