অপহরণ-ইয়াবার নিয়ন্ত্রণ-চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিভিন্ন ইস্যুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বেড়েছে গ্রুপিং। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিনদিন অশান্ত হয়ে উঠছে। ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাড়ছে খুনাখুনি। গত তিন দিনে একাধিক সংঘর্ষে এক নারীসহ আট জন নিহত হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পের ভেতরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রাও রয়েছেন চরম আতঙ্কের মধ্যে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে সারা দিন দুপক্ষের মধ্যে আবারও প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় নতুন করে উভয় পক্ষে শতাধিক রোহিঙ্গা আহত হন। সকাল ১০টার পর থেকে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ ঘটনায় ভয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসে আশ্রয় নেয়। এসময় সাধারণ রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। মঙ্গলবার নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রোহিঙ্গারা বলছেন, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ইয়াবা ব্যবসা, দোকান থেকে চাঁদাবাজি ও এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্না ও আনাছ গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলে আসছে। এরই জেরে খুনের ঘটনা বাড়ছে। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশির ভাগ ক্যাম্পে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। গত সপ্তাহ জুড়ে উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গাদের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংঘাত চলে।
উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ থাকায় ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।