‘খালাসের সঙ্গে ফাঁসি বহালের রায়ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা উচিত’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, খালাসের রায় নিয়ে গণমাধ্যম যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করে, মৃত্যুদণ্ড বহালের রায়ের ক্ষেত্রেও তেমন গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন, জেল আপিলের শুনানি নিয়ে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আমরা খালাস দিয়েছি। কারণ, আমরা সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছি, যে আমরা ন্যায় বিচার করবো। তাই শপথের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিচার করেছি, তাতে আসামি খালাস পেয়েছে।

প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের স্মরণে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ল' রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত শোক সভায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশে বলেন, আপনারাও এ ধরনের মামলার রায় নিয়ে বড় বড় প্রতিবেদন করেছেন। আমিও টিভিতে দেখেছি যে, এত বছর কেন আসামি কনডেম সেলে ছিলো? আপিল বিভাগ এত বছর কেন মামলাটি নিষ্পত্তি করেনি।  কিন্তু আমরা তো বসে নাই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা প্রতিবেদন করছেন যে এতদিন ডেথ সেলে থাকার পরে আমরা আসামি ছেড়েছি কেন? কিন্তু আমরা গত কয়েকদিনে যেসব আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছি সে বিষয়ে কোন সংবাদ দেখতে পেলাম না। কিন্তু আপনাদের উচিত খালাসের পাশাপাশি সাজা বহালের সংবাদও প্রচার করা। এটা জানালে বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বস্তি হবে। এটা মানুষের জানার অধিকার আছে।

নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা জুডিশিয়ারিতে আছি, আমরাও চাই নারী নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার হোক।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের অনেক বিরল গুণ ছিল। তাঁর আদর্শগুলো অনুসরণ  করতে পারলে আইনজীবীদের অনেক লাভ হবে।

ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাশহুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক  ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ।

ইত্তেফাক/বিএএফ