জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাঁচাতে বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের ভবিষ্যেক সুরক্ষিত করতে এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ‘মিডনাইট সার্ভাইভাল ডেডলাইন ফর দ্য ক্লাইমেট’ শীর্ষক ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি হিসেবে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন।

পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের জন্য চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির বর্তমান হারকে হ্রাস করার একমাত্র উপায়। দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় সরকারগুলোকে তাদের জাতীয় অবদানকেই কেবল সম্মান জানানো উচিত নয়, তাদের আকাঙ্ক্ষাও যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো দরকার। জলবায়ু ন্যায়বিচারের ধারণাটি জলবায়ু এবং পৃথিবীর স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি এমডিবি এবং আইএফআইসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে (উন্নত দেশগুলো) অর্থের আরো জোরদার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকে চিহ্নিত করতে এবং মূলধারায় আনতে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)-এর সভাপতি বান কি মুন এবং সিভিএফের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার ফর অ্যাডাপটেশনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয় খুলেছে। এটি বাংলাদেশের সভাপতির সচিবালয় হিসেবে কাজ করবে এবং এই অঞ্চলে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ায় যথাযথ পদক্ষেপে সহায়তা, সাহায্য এবং বিকাশ ঘটাবে।