দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ, ৪ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই বান্ধবীকে দলবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হলে ওই ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে ওই গ্রুপের অন্য সদস্যরা। ঘটনার প্রায় ৩৬ দিন পর বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। এরপর পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে আটক করেছে। 

গত ৩০ আগস্ট একই বাসার ভাড়াটিয়া দুই তরুণের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো ওই দুই বান্ধবী। এসময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই দুই তরুণীকে  একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। 

আটক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হলো- কিশোর গ্যাং দলনেতা সারুফ, ডায়মন আল আমিন, জাকির ও পান রাকিব। বুধবার (৭ অক্টোবর) খুলনা থেকে গ্যাং লিডার সারুফকে এবং আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট থেকে বাকিদের আটক করে পুলিশ। তারা সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যরা হলো- জিদান, রেদওয়ান, আলআমিন সহ আরও কয়েকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে একটি কারখানায় কাজ করতো ভুক্তভোগী দুই বান্ধবী। কারখানা ছুটি থাকায় গত ৩০ আগস্ট একই বাড়ির ভাড়াটিয়া তাদের দুই প্রতিবেশী তরুণের সাথে তারা ভাদাইলের গুলিয়ারটেক এলাকায় বেড়াতে যায়। এসময় ওই কিশোর গ্যাংয়ের ১২/১৪ জন সদস্য তাদের ঘিরে ফেলে। এরপর দুই তরুণকে মারধর করে আলাদা একটি ঘরে বসিয়ে রাখে। এসময় তাদের সাথে থাকা দুই বান্ধবীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তা ভিডিও ধারণ করে বখাটেরা।

আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা: আপিলও স্বামীসহ ৩ জনের ফাঁসি বহাল 

ধর্ষণের শিকার কিশোরীদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া ইসরাফিল নামের এক তরুণ জানান, গুলিয়ারটেক এলাকায় বান্ধবীদের নিয়ে বেড়াতে গেলে হঠাৎ চারপাশ থেকে ১২/১৪ জন বখাটে ঘিরে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কি তা জানতে চায়। এসময় তারা আত্মীয় পরিচয় দিলেও বখাটেরা কোন কিছু না শুনে তাদের উপর চড়াও হয় এবং তাদেরকে মারধর করতে থাকে। মারধর শেষে তাদেরকে একটি ঘরে আটকে রাখে। এসময় তাদের সাথে থাকা দুই বান্ধবীকে তাদের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে। এরপর তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং কাউকে এ ঘটনা জানালে সবাইকে মেরে ফেলা হবে শাসিয়ে দেয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় ১ মাস পর কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জের ধরেই ওই ধর্ষণের ধারণ করা ভিডিও দলের অন্য এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে। এ ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর গ্যাংয়ের প্রধান সারুফের বাবা আকরাম আলী কিশোর গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যসহ অভিযুক্তদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে স্থানীয় মাদবরদের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখে ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। বুধবার খুলনা থেকে গ্যাং লিডার সারুফকে এবং আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট থেকে বাকিদের আটক করা হয়।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান জানান, ভিডিও ফাঁস হওয়ার পরপরই কোনো অভিযোগ না পেলেও তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ওই গ্যাংয়ের দলনেতাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

                                                                                                                                                                                         

ইত্তেফাক/এমএএম