নবযৌবনে লাল শাপলার রাজ্য

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ফুটছে নয়নাভিরাম লাল শাপলা। বর্ষা থেকে হেমন্তর শেষ পর্যন্ত বিলে ও নিচু জমির জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে লাল শাপলা। এই শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় আবহমানকাল থেকে যুক্ত রয়েছে। তবে জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে আগৈলঝাড়া উপজেলার বিলাঞ্চল থেকে কমে যাচ্ছে লাল শাপলা। 

আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাগধা গ্রামের প্রবীণ বাবু লাল জানান, আষাঢ় থেকে অগ্রহাণন মাস পর্যন্ত উপজেলার বাগধা ইউনিয়ন, বাকাল ও সাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন জলাশয়ে শাপলা ফুল ফোটে। কিন্তু বর্তমানে আগের মত লাল শাপলা তেমন দেখা যায় না। তবে আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বাগধা-সাতলা এলাকায় এখনো ফুটছে নয়নাভিরাম লাল শাপলা। বিলের পর বিল এই শাপলা দেখতে নৌকায় করে বিলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশি-বিদেশি প্রকৃতি প্রেমীরা। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকাও নির্বাহ করে আসছেন। পর্যটকদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছে লাল শাপলা। পর্যটক বেড়ে যাওয়ায় পাখিদের কলতানে মুখরিত থাকা শাপলা বিলগুলোতে কমে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি পাখিদের সংখ্যা।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় জানান, শাপলা প্রধানত দুই রঙয়ের হয়ে থাকে। লাল ও সাদা। এরমধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙের শাপলা ওষুধি গুণে সমৃদ্ধ। শাপলা খুব পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবজি। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। 

তিনি আরও জানান, লাল শাপলা চুলকানি ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। প্রতি একশ গ্রাম শাপলায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্যপ্রাণ ১৪২ কিলোগ্রাম, ক্যালোরি-প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম। আবার শাপলার ফুল দিয়ে চমৎকার সু-স্বাদু খৈ ভাজা যায়। এই ফলটি গ্রামগঞ্জে ঢ্যাপের খৈ নামে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল-হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন গ্রাম গঞ্জের লোকজন জমি থেকে শালুক তোলে। শালুক খেতেও বেশ সু-স্বাদু। গ্রাম-গঞ্জে একসময় অভাবী সংসারে শালুক সেদ্ধ করে দিনের খাবার হিসেবেই গ্রহণ করা হতো। শালুক আমাশয়ের জন্য খুবই উপকারী সবজী। সহজলভ্য হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই শাপলা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ আসছে। 

কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার ও কার্প জাতীয় মাছ চাষের কারণে শাপলার বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হুমকির মুখে পরবে জীব বৈচিত্র। তাই জীব বৈচিত্র ধরে রাখতে সরকারের পরিকল্পনা নেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। 

ইত্তেফাক/এসি