প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা কি জানো পৃথিবীর সব থেকে দামি পুরস্কারের নাম কী? যারা খোঁজ রাখো তারা নিশ্চয়ই জানো, পৃথিবীর সব থেকে দামি পুরস্কার হলো নোবেল পুরস্কার। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ৬টি বিষয়ে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সেগুলো হলো—পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য, চিকিত্সা, শান্তি এবং অর্থনীতি। আজ তোমাদের বলব এই বছরের পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার নিয়ে।
গত ৬ অক্টোবর পদার্থ বিজ্ঞানে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আর তাতে উঠে আসে কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণায় জড়িত বিজ্ঞানীদের নাম। কৃষ্ণগহ্বর সংক্রান্ত নতুন বোঝাপড়ার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে এ বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গণিতজ্ঞ রজার পেনরোস, জার্মান বিজ্ঞানী রেনহার্ড গেঞ্জেল এবং আমেরিকার পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজ—যিনি এখন পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারজয়ী চতুর্থ নারী বিজ্ঞানী।
কৃষ্ণগহ্বর আসলে কী?
২০১৯ সালের এপ্রিলের ১০ তারিখে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস নামক বিজ্ঞান পত্রিকায় ছাপা হওয়া একটা ছবি রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে যায়। যে জিনিসের গায়ে আলো পড়লে প্রতিফলিত হয় না, অর্থাত্ কোনোভাবেই যাকে দেখা যায় না, সেই জিনিসের ছবি তো ডুমুরের ফুলই! যখন প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি প্রকাশিত হলো, তখন সেটা নিয়েই সবাই মেতে থাকল।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কৃষ্ণগহ্বর হচ্ছে একটি মৃত নক্ষত্র, যার ভর আর ঘনত্ব এত বেশি যে জিনিসটার একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে চলে আসলে এর মহাকর্ষের বন্ধন ছিন্ন করে কিছুই বেরিয়ে যেতে পারে না, এমনকি সবচেয়ে দ্রুতগামী ও ভরহীন আলোও না। মানুষের যেমন জন্ম-মৃত্যু আছে, নক্ষত্রেরও আছে। আর নক্ষত্র যদি ধসের পর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, সেটাকে বলে কৃষ্ণগহ্বর। প্রায় সকল ছায়াপথের কেন্দ্রেই বিশাল আকৃতির কৃষ্ণগহ্বর থাকে, যেগুলোকে সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বলে। মজার বিষয় হচ্ছে, কৃষ্ণগহ্বরকে দেখা কিন্তু অসম্ভব! কারণ পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুযায়ী আলো প্রতিফলিত না হলে কোনো কিছুই দেখা যায় না।
কৃষ্ণগহ্বরদের স্বভাব-চরিত্র, তাদের কার্যকলাপের পর্দা ফাঁস করলেন এই বছরের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটি বলেছেন, কৃষ্ণগহ্বরের গঠন নিয়ে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রজার পেনরোসের আবিষ্কার বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের পূর্বানুমানকে জোরালো করেছে, আর সেকারণে তিনি পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন। অন্যদিকে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে একটি বিশালাকার সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল আবিষ্কার ও এ নিয়ে গবেষণার জন্য মার্কিন পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজ ও জার্মান জ্যোতির্বিদ রেনহার্ড গেঞ্জেল পাবেন পুরস্কারের বাকি অর্ধেক অংশ।
বিজ্ঞানের এই নতুন অর্জনের কারণে ভবিষ্যতে আমরা নিশ্চয়ই ব্ল্যাক হোল নিয়ে আরো অনেক অজানা তথ্য জানতে পারব যা আমাদের সামনে মহাবিশ্বের নতুন কোনো রহস্যদ্বার উন্মোচন করবে।
নবম শ্রেণি
সরকারি পি এন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী