বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তোরণে করোনার প্রভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের আগে এই ক্যাটাগরি থেকে বের হলে যেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক এজেন্ডা তৈরি করা জরুরি। এ বিষয়ে বাংলাদেশকেই নেতৃত্ব দিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার করোনা মহামারির পরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল এই আলোচনা অনুষ্ঠানটিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পঞ্চম সম্মেলন আগামী ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১১ সালে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ সম্মেলনে যেসব আন্তর্জাতিক সমঝোতা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। আগামী সম্মেলনেও যেসব স্বল্পোন্নত দেশ শিগিগরই উত্তোরণ করতে যাচ্ছে তাদের এ ব্যাপারে দাবিদাওয়া তুলতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আন্তর্জাতিক গণপণ্য হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশগুলো পাবে; কিন্তু এখান থেকে বেরিয়ে গেলে আর পাবে কি না—সে ব্যাপারে আলোচনা তুলতে হবে।
এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, এ তিনটির যে কোনো দুইটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে এই যোগ্যতা অর্জন করতে উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এরপর ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি মিলবে। দেবপ্রিয় বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই তিনটি সূচকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। তবে এবার এলডিসি দেশগুলোতে কোভিডের কী প্রভাব পড়ছে সেটিও দেখা হচ্ছে। প্রতিটি দেশেই আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।