কর পরিশোধে বিদ্যমান ম্যানুয়াল চালানের স্থলে এখন থেকে করদাতারা ই-চালানের (অনলাইন চালান) মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে জমাকৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারের ঘরে জমা হবে এবং করদাতাও তা দ্রুতই জানতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেছে। এর ফলে আদায়কৃত রাজস্বের চেয়ে কর বা ভ্যাট অফিসের মাধ্যমে বাড়তি রাজস্ব দেখানোর সুযোগ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯টি শাখায় এবং সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ২২৪টি শাখায় ট্রেজারি চালানের অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় চালান পদ্ধতিতে ব্যাংক শাখার কাউন্টারে নগদ, চেক ও অ্যাকাউন্ট ডেবিটের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। এমনকি গ্রাহক অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল (এমএফএস) সেবার মাধ্যমেও চালানের অর্থ জমা দেওয়া যাবে। নগদ, অনলাইন ব্যাংকিং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়া হলে গ্রাহককে তাত্ক্ষণিকভাবে চালানের কপি দেওয়া হবে। চেকের ক্ষেত্রে গ্রাহক চেক জমা স্লিপ পাবেন এবং পরবর্তীতে চেক ক্লিয়ার হলে চালান দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রথম পর্যায়ে ঢাকা মহানগরীর সোনালী ব্যাংকসহ চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, দ্বিতীয় পর্যায়ে ঢাকা মহানগরীর অন্যান্য সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, তৃতীয় পর্যায়ে সারা দেশে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব শাখায় বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা কর অঞ্চল-৪-এর আওতায় ব্যক্তি ও কোম্পানি কর্তৃক দেয় আয়কর জমা প্রদান দিয়ে শুরু হলেও ঢাকা মহানগরীতে বাস্তবায়নের কার্যক্রম। শিগিগরই এই সিস্টেমের মাধ্যমে ভ্যাট, জমি রেজিস্ট্রেশন ও গাড়ী রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সরকারি ১৯৬ ধরনের রাজস্ব ও ফি এর অর্থ জমা নেওয়া হবে।
গতকাল অনলাইনে এই ব্যবস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআরডির সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, এনবিআর সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই ম্যানুয়াল চালানের মাধ্যমে রাজস্ব পরিশোধের কারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবের সঙ্গে রাজস্বে বিস্তর ফারাক ছিল এনবিআরের হিসাবে। এই সুযোগ অনেক কর অফিস আদায়ের চাইতে রাজস্ব ফলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখাতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত অর্থের চাইতে কয়েক হাজার কোটি টাকা বেশি দেখা যেত এনবিআরের হিসাবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ব্যবধান ১৩ হাজার কোটি টাকায় ঠেকে।