সাংবাদিক ও কথাশিল্পী রাহাত খান স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, রাহাত খান শুধু সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এদেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। পূর্ববঙ্গ থেকে পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যাদের হাত ধরে বাংলা ভাষায় গতিময় গদ্য প্রবাহিত হয়েছে রাহাত খান তাদের অন্যতম। তিনি তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন আমাদের মধ্যে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘আবিষ্কার’। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তার বিখ্যাত কিশোর উপন্যাস ‘দিলুর গল্প’ এর মোড়ক উন্মোচন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রাহাত খানকে নিবেদিত কবিতা পাঠ করা হয়।
এতে রাহাত খানের স্ত্রী সংগীতশিল্পী অপর্ণা খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. এ কে আজাদ খান, সাংবাদিক হারুন হাবীব, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের অধ্যাপক ড. বাহাউদ্দিন, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, কবি মারুফুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘আবিষ্কার’ এর প্রকাশক দেলোয়ার হাসান।
ডা. এ কে আজাদ খান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার গড়ে তুলতে রাহাত খানের অপরিসীম অবদানের কথা স্মরণ করেন। মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাহাত খান শুধু কথা সাহিত্যিকই ছিলেন না, দেশবরেণ্য সাংবাদিকও ছিলেন। দেশের সাংবাদিকতায় তার ব্যাপক অবদান ছিল। হারুন হাবীব বলেন, রাহাত খান শুধু সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও রাহাত খান কিংবদন্তিতুল্য। তার এ চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একটা বিরাট শূন্যতা বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে ও সাংবাদিকতায় সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রাহাত খান শুধু কর্মজীবনে নয়, ব্যক্তি জীবনেও নিরহংকার ও অমায়িক মানুষ ছিলেন। তিনি সুন্দর ও নান্দনিক জীবনযাপন করতেন। রাহাত খানের কাজ, তার কথা, সান্নিধ্যের অভাব আমরা দীর্ঘদিন অনুভব করব।