ভারতের নতুন হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই কমবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে হাইকমিশনারের বাসভবন ইন্ডিয়া হাউজে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয় পত্র পেশ করেন তিনি। গত ৫ অক্টোবর বিক্রম দোরাইস্বামী দেশে আসেন। বাংলাদেশে ভারতের ১৭তম এই হাইকমিশনার সাবেক হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বিক্রম দোরাইস্বামী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ সব সময় ভারতের বিশেষ অংশীদার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে, কারণ এই বন্ধুত্ব রচিত হয়েছে অভিন্ন ত্যাগ, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মীয়তার অনন্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে সকল ইস্যুর পারস্পারিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে ভারত সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করতে পারায় আমরা সব সময়ই সম্মানিত বোধ করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাশা পূরণে আমি এবং আমার সহকর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমরা বন্ধু, অংশীদার এবং প্রতিবেশি হিসেবে সর্বদা পাশে থাকব। এসময় তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি আজ শুক্রবার সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন।
নতুন হাইকমিশনার বলেন, নিকটতম সম্পর্কেরও পরিচর্যা-যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। ভারত সরকার আমাকে ঠিক সেটাই করার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই কারণেই আমরা খুব শিগগিরই বিমান চলাচল শুরু করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় একটি বিশেষ ‘এয়ার বাবল’ ব্যবস্থা চালু করব। বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ভারত করোনা ভ্যাকসিন উত্পাদন ও বাজারজাতে কাজ করবে। যাতে সেটা স্বল্পমূল্যে বাংলাদেশের মানুষ পায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ হচ্ছে যাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শিত হয়। তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ সব ইস্যু নিরসনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবো। ভারতের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী হবো।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয় পত্র পেশ
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয় পত্র পেশ করেছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত শুধু বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশি নয়, বিশ্বস্ত বন্ধুও। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।