বন্ধ করা যাচ্ছে না যাদুকাটা নদীর পাথর উত্তোলন

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় সীমান্তের একমাত্র পর্যটনকেন্দ  রূপের নদী যাদুকাটার দুই তীর কেটে এবং তীরসংলগ্ন সরকারি খাস আবাদি জমিতে শতাধিক কোয়ারি তৈরি করে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে চলছে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোত্সব। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ বালু ও পাথর খেকো চক্র। তারা দিনে ও রাতের আঁধারে নদীর তীর কেটেও কোয়ারির নাম করে নদীর তীরের জমি থেকে মালিকানা দাবি করে বালু ও পাথর বিক্রি করে আসছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুর কোয়ারিকেন্দি ক বাদাঘাট ইউনিয়নের পাহাড়ি নদী যাদুকাটার র্দীঘ ২৩ কিলোমিটার এলাকার ফাজিলপুর থেকে লাউড়ের গড় অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ছড়ারপাড়, ডালারপাড়, গাঘটিয়া, বড়টেক, বিন্নাকুলি, কাইলকাপুর মোদেরগাও, গড়কাটি, গাঘড়া, পাঠনপাড়া, কুনাটছড়াও সোহালা গ্রামসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ার চর, ছত্রিশ, আমড়িয়া, সিরাজপুর বাগগাঁও মনবেকসহ ৩০টি গ্রাম ইতিমধ্যেই নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীর পাড়ের সরকারি (স্কুল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, আবাদি জমি, রাস্তাঘাট সহ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নদী পাড়ের সাধারণ মানুষ।

নদীর পাড়ে বসবাসরত সাধারণ লোকজন জানান, সরকার তাদের একটি                 আদর্শ গ্রাম করে দিয়েছিল। খাস জমির ওপর সেই জমির এখন মালিকানা দাবী করে ঘর পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। সরকারি পুকুর, আদর্শ গ্রামের অফিস সব কিছুই এখন দুর্বৃত্তদের কবজায়। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, কোটিপতি হচ্ছে মাত্র ওরা কয়েকজন আর আদী নিবাস হারাবে তীরবর্তী হাজারো পরিবার। নদীরপাড়ে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘বাজান কিতা কইতাম প্রতি রাইতেই লাম্বা দা লইয়া আমার বাড়ির সামনে বইয়া চুরুট (সিগারেট) টানে আর সারা রাইত পাড় কাইট্যা নাও ভইরা বালু নেয়।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা নদীতে রাতে অভিযানে যাওয়ার আগেই নদীর পাড় কাটার সঙ্গে জড়িতরা খবর পেয়ে যায়। অভিযানে যাওয়ার পর সেখানে কাউকেই পাওয়া যায় না। তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে।