খুলনায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ ঠেকানোই যাচ্ছে না

খুলনায় করোনা পরিস্থিতিতেও বন্ধ নেই সাদা সোনা খ্যাত চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ। জেলা প্রশাসন, র্যাব, কোস্টগার্ড, মত্স্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েও চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের সঙ্গে জড়িতদের দমন করতে পারছে না। ফলে বিদেশের বাজারে সুনাম হারাচ্ছে বাংলাদেশের সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনার নতুন বাজার ও রূপসায় সাত শতাধিক ছোট-বড় চিংড়ির ডিপো রয়েছে। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক ডিপোতে নিয়মিত চিংড়ির শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে অপদ্রব্য পুশ করা হয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই অপকর্ম। এ সব অপদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ফিটকিরির পানি, ভাতের মাড়, সাগু, অ্যারারুট, লোহা বা সীসার গুলি, মার্বেল, ম্যাজিক বল, জেলিসহ বিভিন্ন পদার্থ।

খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া সেল) দেবাশীষ বসাক জানান, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে চিংড়িতে অপদ্রব্য জেলি পুশ করার সময় সোহান শেখ, মো. শাহাজাহান, শেখ কানন ও                  জেলি পুশ করার উদ্দেশ্যে চিংড়ি পরিবহনকারী ভ্যানচালক ইব্রাহিম হাওলাদারকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের কথা স্বীকার করে। দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সোহান শেখ, শাহাজাহান ও শেখ কাননকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ঐ তিন জনসহ ভ্যানচালক ইব্রাহিম হাওলাদারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

খুলনার মত্স্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬২০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে কারাদণ্ডসহ ৯ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু আহাদ হাফিজ বলেন, যারা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে তারা অধিকাংশই মৌসুমি ব্যবসায়ী। তারা নিয়মিত অভিযানে ধরা পড়ে জেল-জরিমানা সাজাও পাচ্ছে। কিন্তু পুশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শেখ মো. আব্দুল বাকি বলেন, কর্মকর্তারা তাদের ধরার পরে বেশির ভাগ সময় শুধু জরিমানা করেই ছেড়ে দেন। পরের দিন তারা আবারও সেই একই কাজে লিপ্ত হয়।

খুলনা কার্যালয়ের মত্স্য পরিদর্শক ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, আগামী দিনে কেউ এমন কাজ করে ধরা পড়লে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হবে।