দুই দিনে চার শিশুকে ধর্ষণ করে এক ব্যক্তি

চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে দুই দিনে চার শিশুকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন ৫৫ বছর বয়সি রিকশাচালক সজল মোল্লা। তাকে ‘নানা’ বলে ডাকত শিশুরা। অথচ ঘরে নিয়ে শিশুদের ওপর চালাতেন পাশবিক নির্যাতন! বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয়ও দেখাতেন। তাই শিশুরা প্রথমে কাউকে কিছু বলেনি। একপর্যায়ে তারা মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়। রাজধানীর উত্তর গোড়ানের এ ঘটনায় স্বজনরা অভিযোগ জানানোর পর বুধবার মধ্যরাতে সেই ধর্ষক ‘নানা’কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুদের চিকিত্সা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে আরো তিন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উত্তর গোড়ানে ধর্ষণের ঘটনায় খিলগাঁও থানার ওসি ফারুকুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুদের বয়স ছয় থেকে ৯ বছরের মধ্যে। তাদের মা-বাবা শ্রমজীবী। সজল মোল্লা প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুরা তাকে চিনত। তাই সে যখন শিশুদের ডেকেছে, তারা যেতে ভয় করেনি। তিনি আরো জানান, শিশুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। আরেক দিন অপর দুই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। তবে তারা দিনটি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। অবশ্য ঘটনার সত্যতা মিলেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। ভুক্তভোগী দুই শিশুর মা-বাবা জানান, সজল মোল্লা                তাদের প্রতিবেশি। তার স্ত্রীও একই বাসায় থাকেন। তবে যে সময়টায় তার স্ত্রী বাসায় থাকেন না, সেই সময়ে এসব অপকর্ম করেন সজল। শিশুদের চকলেট ও টাকা দেওয়ার কথা বলে ঘরে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালান।

ওসিসির সমন্বয়ক বিলকিস বেগম জানান, পরীক্ষায় শিশুদের ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে তারা শারীরিকভাবে ভালো আছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানায়, গতকাল আদালতে হাজির করা হলে সজল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণ

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, কাশিমপুর এলাকায় রাস্তা থেকে তুলে ব্র্যাক স্কুলের ভেতরে নিয়ে এক কিশোরীকে (১৩) দল বেঁধে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে তরুণ। বুধবার দুপুরের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরীর মা বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় মামলা করেছেন। বিকালে দুই আসামিকে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন, নওগাঁ সদর থানার রজাকপুর এলাকার সম্রাট হোসেন শান্ত (২১) এবং একই থানার ভবানীপুর এলাকার শাকিল আহম্মেদ (২৩)। তারা গাজীপুরের কাশিমপুর থানার তেঁতুইবাড়ী এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকত। কাশিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোরীকে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস নয়নকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পরিবহন বিভাগে কর্মরত বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক। কুদ্দুস ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার উত্তর চরমঙ্গল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর পূর্বে ফেসবুকের মাধ্যমে নয়নের সঙ্গে ঐ নারীর পরিচয় হয়। বিয়েসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার বিকালে কুদ্দুস তার বাসায় গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের শিকার আরেক শিশু

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলার সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর নোমানে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন (২০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে চরজব্বার থানার পুলিশ। বুধবার রাতের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির মা মামলা করলে সেদিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে।

আশুলিয়ায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

সাভার থেকে আমাদের রিপোর্টার জানান, আশুলিয়ায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বুধবার রাতে ভুক্তভোগী ঐ তরুণীর বড় বোন বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে দুই বান্ধবী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেলেও মামলা দায়েরের পূর্বে তাদের একজন জানিয়েছেন যে তাকে ধর্ষণ করা হয়নি, তবে আটকিয়ে মারধর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষণের শিকার তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এবং আগের দিন আটক কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার ভাদাইল গুলিয়ারচক এলাকায় ঐ তরুণী ধর্ষণের শিকার হন।

ধর্ষণচেষ্টাকারী শ্বশুর গ্রেফতার

চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গত বুধবার রাতে অভিযুক্ত শ্বশুর কাদের মাঝিকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাসেরহাট গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদ মাঝির ছেলে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ বসতঘরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।