১৯৬৫ সালের পর হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেললাইনে ভারতীয় রেলইঞ্জিন

নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি রেলপথ সংযোগের নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে পরীক্ষামূলক চলাচল করলো ভারতীয় একটি রেল ইঞ্জিন। ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ি সীমান্ত রেলস্টেশন পেরিয়ে ইঞ্জিনটি বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছে। সেখানে ১০ মিনিট অবস্থানের পর পুনরায় ছেড়ে যায় হলদিবাড়ির উদ্দেশ্যে। পরে ওই সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় রেলবিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রেলওয়ে সূত্রমতে, ১৯৬৫ সালের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পরিত্যক্ত রেলপথটি চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশের সরকার। এ উদ্যোগে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তের পথে। এর আগে ভারত হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজ সমাপ্ত করলেও তাদের অংশে জিরো পয়েন্টে দেড়শ মিটার অবশিষ্ট ছিল। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে অবশিষ্ট অংশের কাজ সমাপ্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেয় ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাক-ভারত বিভক্তের পরও এপথে রেল চলাচল চালু ছিল। সে সময়ে এ পথে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতো যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে রেল চলাচল। বন্ধ থাকা পথটি চালু করতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার।

প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ ও দুই দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেল স্টেশন চত্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট চিলাহাটির জিরো পয়েন্টে ভারত-বাংলাদশ সংযোগস্থলে রেলপথের নির্মাণ কাজের পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর অথবা ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী এ পথে রেল চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

ভারতীয় অংশে ওই চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রহীম বলেন, ভারত তাদের অংশে রেলপথ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে পরীক্ষামূলক রেল চলাচলের কাজও শেষ করেছে। বাংলাদেশ অংশে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পরীক্ষামূলক রেল চলানো হবে।

এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী সঞ্জিব কুমার ভাটী আজ বৃহস্পতিবার বিকালে নীলফামারী শহরে ভারতীয় অর্থায়নে নির্মাণাধীন কালিবাড়ি মন্দির পরিদর্শনে এসে বলেন, ‘খুব শীঘ্রই চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ চালু হবে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্ত। আজ (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষামূলকভাবে ভারত হতে একটি ইঞ্জিন চিলাহাটি-হলদীবাড়ি জিরো পয়েন্টে এসে ফিরে গিয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি