মোহাম্মদ ইলিয়াছ
উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে পরীক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের গড় ভিত্তিতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হবে। কী পদ্ধতিতে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শিক্ষাবোর্ড ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল ও পরামর্শক কমিটি কাজ করবেন। আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এক্ষেত্রে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে এইচএসসিতে যারাই ফরম পূরণ করেছে তারা সবাই পাশ করবে। ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা এক বা দুই কিংবা সব বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরও একইভাবে মূল্যায়ন করে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে। কেননা তারা সবাই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছে। এবারে এইচএসসি বা সমমানের মোট পরীক্ষার্থী ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ এবং অনিয়মিত ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন। আগের বছর অকৃতকার্য হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার এক বিষয়ে ফেল করে। ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী দুই বিষয়ে এবং ৫১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তিন বা ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্য। কিন্তু তারা সবাই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। তারাও সবাই পাশ করবে। অনেকের যুক্তি—উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠক্রমের ভিত্তিতে ফলাফল মূল্যায়ন হচ্ছে না। আগের দুই পরীক্ষার ভিত্তিতে ফলাফল মূল্যায়ন হলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব কি না। ফেল করা শিক্ষার্থীর গড় মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত এবং উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠক্রমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না হলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন ভাবার বিষয়। আবার অনেক শিক্ষার্থী এসএসসিতে কম জিপিএ পেয়েছে, কিন্তু এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করতে পারে—তাদের অবস্থা কী হবে? সবকিছু বিবেচনা করে এইচএসসির ফলাফল মূল্যায়ন করা দরকার। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল গড় করে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করলে ভালো হবে। কিছুটা সমস্যা হবে বিষয়ভিত্তিক ফল মূল্যায়ন নিয়ে। আমার মতে, এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড় পদ্ধতি ঠিক আছে। তবে বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন কী রকম হবে তা নিয়ে ভাবা উচিত। যদি বলি এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিষয়ের একজন শিক্ষার্থীর উচ্চতর গণিত বিষয়ের নম্বর বণ্টন কী রকম হবে? এক্ষেত্রে আমার মতামত হচ্ছে—জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার গণিত বিষয়ের নম্বরের গড় করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে এসএসসির উচ্চতর গণিতের নম্বর হিসাবে আনার প্রয়োজন নেই। শুধু হিসাবে আনতে হবে জেএসসি ও এসএসসির সাধারণ গণিত বিষয়ের নম্বর। এভাবে জেএসসির বিজ্ঞান বিষয়ের নম্বরের সঙ্গে এসএসসির বিজ্ঞান বিষয়ের পদাথবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার বিষয়ের নম্বর গড় করে বিজ্ঞানের ঐ তিন বিষয়ের নম্বর বণ্টন করা যেতে পারে। জেএসসির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের নম্বরের সঙ্গে মানবিক বিভাগের সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাা ও অর্থনীতি বিষয়ের নম্বর গড় করা উচিত। অন্যান্য বিষয়কে অনুরূপ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
কোন শিক্ষার্থী কী রকম মেধাবী তা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা ভালো জানেন। তাঁরা প্রতি বিষয়ে ২০ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন (পরীক্ষা ছাড়া) করে টেকনিক্যাল কমিটির কাছে নম্বর পাঠাতে পারেন। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে শিক্ষক মূল্যায়ন নম্বর যোগ করে ফলাফল নির্ধারণ করা যেতে পারে। টেকনিক্যাল কমিটি এসব বিষয় বিবেচনায় আনতে পারেন। আমরা যেভাবে ফলাফল নির্ধারণে যুক্তি উপস্থাপন করি না কেন—আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনে টেকনিক্যাল কমিটি ফলাফল নির্ধারণে কাজ করবেন, এটাই অভিভাবক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের আশা।
সহ. অধ্যাপক, আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজ, চট্টগ্রাম