বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অর্থনীতির বর্তমান উত্তরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন :অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে পূর্বাভাস দিয়েছে তা বাংলাদেশের অথনীতির বর্তমান উত্তরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তারা যখন কোনো দেশ সম্পর্কে বা কোনো বিষয় নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করে, সঙ্গত কারণেই এটি সবাইকে প্রভাবিত করতে পারে। করোনার প্রভাবে অর্থনীতিতে যে শ্লথ গতি তৈরি হয়েছিল সেটি অনেকটাই এখন স্বাভাবিক। তারা আমাদের জিডিপি সম্পর্কে এবার যে পূর্বাভাস দিয়েছে সেটি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির অবস্থা বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী বছর এটি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন নিয়ে অর্থমন্ত্রী এক প্রেস বার্তায় গতকাল শুক্রবার এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি বর্তমানে চিকিত্সার জন্য দুবাই আছেন। আগামী ১৬ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য ও মহামারি পরিচালন ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সত্ত্বেও সরকারের উপযুক্ত অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অর্থনীতিকে সুসংহত করেছে, দরিদ্র ও দুর্বলদের জন্য মৌলিক সেবা ও পণ্যাদি নিশ্চিত করেছে। অভ্যন্তরীণ বেসরকারি ও সরকারি ব্যয়, বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাত বেশ সক্ষম অবস্থানে রয়েছে।

২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনু্ষ্ঠানে বিতর্কের মধ্যেই আহ্বান জানিয়েছিলাম ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে। ও পৃথিবী তোমায় জানাই, স্বাগতম এই দিনে।’  বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অর্জন নিয়ে বিদ্যমান বিতর্ক দেখে এখনো আবার সংশ্লিষ্টদের বলতে ইচ্ছে করে—আসুন চিনে নিন এক অন্যরকম নতুন বাংলাদেশ।

দেশের সব মানুষকে উদ্দেশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বারবার আমরা বলেছি, এ দেশের মানুষ এ দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, তারাই আবার প্রমাণ করবে, বিশ্বব্যাংক যে প্রক্ষেপণ করেছে তা সামঞ্জস্যহীন। সাহসী বাঙালি জাতি অতীতেও বারবার প্রমাণ করেছেন, এবারেও পারবেন।