সাভারের আশুলিয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় যমজ বোনসহ তিন শিশু ধর্ষণ ও এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক বাড়িওয়ালাসহ অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ৬ অক্টোবর আশুলিয়ার তৈয়বপুর উত্তর মোল্লাপাড়া এলাকায় বাড়িওয়ালা কর্তৃক যমজ বোনসহ ওই তিন শিশু ধর্ষিত হয়। কিন্তু ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ বৃহষ্পতিবার রাতে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন শেখ (৫৭)কে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে যমজ শিশু দুটির বাবা আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নির্যাতনের শিকার ওই শিশুরা পরিবারের সাথে গ্রেফতারকৃত হেলালের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ধর্ষক হেলাল উদ্দিন শেখ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৯ বছরের দুই যমজ মেয়েকে নিয়ে পোশাক শ্রমিক মা-বাবা তৈয়বপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের মা-বাবা কাজে গেলে সুযোগ বুঝে বাড়িওয়ালা হেলাল উদ্দিন জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে জমজ দুই বোনসহ প্রতিবেশী আরও এক শিশুকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুদের বাবা-মা কাজ থেকে বাসায় ফিরে এলে তারা কান্নাকাটি করে ঘটনার বর্ননা দেয়। এবিষয়ে শিশুদের বাবা মা বাড়ির মালিক হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে উল্টো তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পর এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে কেউ একজন ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির মালিক ধর্ষক হেলালকে গ্রেফতার করে। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার আশুলিয়া একটি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অপরদিকে আশুলিয়ায় রুস্তমপুরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে রস্তমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- রাজশাহী জেলার রাজাপাড়া থানার শ্রীরামপুর গ্রামের মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), আশুলিয়া রোস্তমপুর এলাকার কৃষ্ণসাহার ছেলে পাপ্পু সাহা (১৯), একই এলাকার মনোরঞ্জন সাহার ছেলে মিলন (২২), সনাতন সাহার ছেলে জ্যোতির্ময় সাহা (১৯), অদম সরকারের ছেলে অন্তর (২০)।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ও অন্তরের সাথে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর পূর্ব পরিচয় ছিল। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ধরে ওই গৃহবধূ বিশেষ প্রয়োজনে সাইফুলের কাছে কিছু টাকা ধার চায়। পরে সাইফুল তাকে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং আশুলিয়ার রুস্তমপুরে আসতে বলে।
কথামতো গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ মিরপুর থেকে টাকা নেওয়ার জন্য আশুলিয়ার রুস্তমপুরে আসেন। পরে সাইফুল ওই গৃহবধূকে এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে সাত বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে।
আশুলিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জিয়া জানান, ধর্ষণের শিকার তিন শিশু ও গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ ধর্ষক গৃহবধূকে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে