নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

দুই মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর, দুই আসামির স্বীকারোক্তি

বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের এক নারীকে (৩৫) বিবস্ত্র করে নির্যাতন  এবং  ভিডিওচিত্র ধারণ ও প্রকাশের ঘটনার তদন্তভার দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই)। থানায় দায়েরকৃত দুইটি মামলা শুক্রবার রাতে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ওই ভুক্তভোগী নারীর তিনটি মামলার মধ্যে শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় দায়ের করা ৫ ও ৬ নম্বর দুটি মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ দুই মামলার এজাহারভুক্ত ৯ জন ও  অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দুইটিতে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে এজাহারভুক্ত ৬ জন এবং রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত ৫জন রয়েছেন।   

জানা যায়, ওই দুইটি মামলা দায়েরের পর ওই নারী ঘটনার মুলহোতা সন্ত্রাসী দোলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও প্রধান সহযোগী আবুল কালামের বিরুদ্ধে আরও একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  

দুই আসমির স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় গ্রেফতারকৃত ও রিমান্ডে থাকা দুই আসামি আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও মো. রাসেল  বিকালে জেলার ৪নম্বর আমলী  আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধি প্রদান করেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেহ উদ্দিন মিজান তাদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধি রেকর্ড করেন করেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠান। 

আদালতের একটি সুত্র জানায়, আসামিরা ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ও সে সময় তারা ঘটনাস্থলেও  উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধি দিয়েছেন।

ওই নারীর গায়ে হাত দিয়েছেন এবং লাথি মেরেছেন রহিম
অভিযোগ শোনার পরও কাউকে আর জানাননি সোহাগ মেম্বার

আদালতের একটি সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার আদালতে  মামলার  ২নম্বর  আসমি  আবদুর রহিম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে  বলেছেন, তিনি ওই নারীর গায়ে হাত দিয়েছেন এবং লাথি মেরেছেন। ঘটনার রাতে প্রথমে তার বসতঘর ঘেরাও করে। পরে তারা (আসামিরা) ঢুকে তাকে বিবস্ত্র করে এবং স্বামীকে আটক করে মারধর করে। এ সময় ওই নারী নিজেকে রক্ষার করা চেষ্টায় করতে গিয়ে দুজনের হাত কামড়ে  দিয়েছিলেন। 

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন, ইউপি মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ তার দেয়া জবানবন্দিতে ঘটনা সম্পর্কে জানতেন বলে স্বীকার করেছেন। ঘটনার কয়েক দিন পর ওই নারী তার বাড়িতে গিয়ে  তাকে নির্যাতনের ঘটনাটি জানান।  

কারা ঘটনার এ ঘটনা করেছে তাদের নামও বলেন। তিনি নারীর অভিযোগ শোনার পর বিষয়টি কাউকে আর জানাননি।

ইত্তেফাক/কেকে