আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত জিয়ারখী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে বিবদমান দুপক্ষের গ্রুপের হামলা-সংঘর্ষে ফরিদ হোসেন (৪৫) নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী বাদশা ও রাশিদুল পক্ষের লোকজনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে জিয়ারখি ইউনিয়নের রাশিদুল ও বাদশা গ্রুপের লোকজন ভোর ৬টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোটা নিয়ে একে অপরের দিকে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ তুমুল আকার ধারণ করে। এসময় গ্রামবাসী প্রাণভয়ে ছুটাছুটা করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের আক্রমণে ফরিদ হোসেন (৪৫) গুরুতর জখম হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত ফরিদ ময়েন ফারজির ছেলে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০জন আহত হন।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে চারজনকে আটক করেছে। তবে যাচাই-বাছাই না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আটককৃতদের নাম প্রকাশ করেনি। নিহত ফরিদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে ওসি জানান।
ইত্তেফাক/আরকেজি