পেটের ভেতরে ইয়াবা পাচার, পায়ুপথে অপসারণ

অভিনব কায়দায় পেটের ভিতর ইয়াবা পাচারের সময় একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকা থেকে এ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতের নাম মো. জাহাঙ্গীর হাসান। তার কাছ থেকে ৯’শ ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। 

শনিবার র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নওগাঁর একজন ইয়াবা পাচারকারী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে অভিনব কৌশলে বাসযোগে ইয়াবা পাচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর উক্ত ইয়াবা পাচারকারী একই কৌশলে চট্টগ্রাম হতে বাসযোগে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসছে।  উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি দল রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগাং রোডস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। 

চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশিকালে চট্টগ্রাম হতে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে মো. জাহাঙ্গীর হাসানকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর হাসানের কথা ও আচরণে অসংলগ্নতা এবং অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পেলেও ইয়াবা পাচারের বিষয়ে সে অস্বীকার করে। 

এরপর গোপনসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার পেটের ভিতর ইয়াবা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের সদর থানাধীন ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে এক্স-রে করে দেখা যায় তার পেটের ভিতর অসংখ্য ডিম্বাকৃতির বস্তু রয়েছে। পরবর্তীতে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর হাসান স্বীকার করে যে তার পেটের ভিতর লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো ছোট ছোট ২০টি ইয়াবার পোটলা রয়েছে যার প্রত্যেকটিতে ৪৭ পিস করে মোট ৯৪০ পিস ইয়াবা রয়েছে। 

সে আরও স্বীকার করে যে, চট্টগ্রামে এই ইয়াবার পোটলাগুলো সে খাবারের সঙ্গে গিলে খায় এবং পরবর্তীতে কলা এবং পাউরুটি খেয়ে সেই পোটলাগুলো পায়ু পথ দিয়ে বের করে। অতঃপর তাকে কলা এবং পাউরুটি খাওয়ানোর পর হাসপাতালের টয়লেটে গিয়ে তার পায়ু পথ দিয়ে লাল টেপ মোড়ানো ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির ২০টি পোটলা বের করে দেয়। 

আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবে অভিনব কৌশলে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ