নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের ১০ দফা দাবি নিয়ে নারীপক্ষ

নারীর নিরাপত্তায় পরিবর্তন প্রয়োজন সব সেক্টরে: শিরিন হক

নারীর নিরাপত্তায় এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নির্দিষ্ট কোন কিছু পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। বরং সব সেক্টরেই পরিবর্তন আনা জরুরি বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী শিরিন হক। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজার সামনে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে কথাগুলো বলেন তিনি।

শিরিন হক বলেন, কোনো এক সেক্টর ধরে অগ্রসর হলে হবে না, একই সাথে সব সেক্টরে কাজ করতে হবে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সব জায়গায় এবং প্রত্যেকের বাড়িতে বাড়িতে শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কেউ জন্মগতভাবে ধর্ষক হয় না, ধর্ষক হয়ে উঠে। তখন আমার আপনার দায়িত্ব আছে সে যেন ঐ কাজে না যায়।   

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের ১০ দফা দাবিসমূহ

১. সব ধরণের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অবসান, সেই সহিংসতা পুরুষতন্ত্র প্রভাবিত রাষ্ট্রীয় কাঠামো কর্তৃক সমর্থিত হোক। অর্থাৎ যেকোনো পুরুষ বা পুরুষদলের দ্বারা গঠিত হোক।
২. সমাজের যেকোনো পরিসরে (কাঠামোগত, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত) যৌন সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দায়ী করা যাবে না।
৩. পরিবারের পুরুষ সদস্যদের দ্বারা যেকোনো সহিংসতার জন্য পরিবার তাদেরকেই জবাবদিহি করবে।
৪. ধর্ষক কোনোভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারে আশ্রয় ও প্রশ্রয় পাবে না। 
৫. যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময়ে, যেকোনো প্রয়োজনে চলতে নিরাপদে চলাফেরা করা।
৬. সম্মান নারীর শরীরে, এমন ধারণার অবসান।
৭. পাঠ্যক্রমে যৌনশিক্ষার পাঠ বাধ্যতামূলক করা।
৮. সাইবারের মাধ্যমে নারীর উপর সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।
৯. দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন সংস্কার করা।
১০. "ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট" কর্তৃক প্রস্তাবিত ১০-দফা দাবিসমূহ অনতিবিলম্বে মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন: 

ক) লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে বিনা সম্মতিতে যেকোনো যৌনকর্মকে অপরাধ গণ্য করে ধর্ষণের সংজ্ঞা সংশোধন করা। 
খ) ভুক্তভোগীকে দায়ী করার সকল ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা বন্ধে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সংশোধন করা। 
গ) লিঙ্গ, ধর্ম, গোষ্ঠী, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, প্রতিবন্ধকতা, যৌন-পরিচিতি/যৌনতা নির্বিশেষে সব ধরণের ভুক্তভোগী ও সহিংসতাজয়ীর জন্য সুরক্ষা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা। 
ঘ) ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের মামলা পরিচালনাকালে লিঙ্গ সংবেদনশীল আচরণ করতে পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক ও সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা । 

এসময় পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়ে করা এই আয়োজনের অংশ হিসেবে স্লোগান ও কবিতাপাঠের পাশাপাশি চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। 

ইত্তেফাক/এমএএম