অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দখলে রাজশাহী মহানগরী

যানজট এখন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাস্তায় জেব্রাক্রসিং চিহ্ন থাকলেও পারাপারের কোনো উপায় নেই। নেই কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল। সামনে, বা ডানে-বামেও যাওয়ার উপায় নেই। ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটাও থমকে যায় যানজটে। করোনাকালেও প্রতিদিন নগরীর সাহেববাজার, শহিদ কামারুজ্জামান চত্বর (গৌরহাঙ্গা), লক্ষ্মীপুর মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ভদ্রামোড়, তালাইমারী মোড়ে যানজটের এই অবস্থা দেখলে মনে হবে দেখার কেউ নেই। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক যেন নগরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে যেমন যানজট অন্যদিকে রয়েছে ফুটপাত দখল। নগরীর সাহেববাজার, সোনাদীঘির মোড়, কুমারপাড়া, রাণীবাজার, লক্ষ্মীপুরসহ প্রধান সড়কের ফুটপাত বেদখল হয়ে আছে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন অল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা। মাঝে মধ্যে রাসিক উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযানের পর আবারও বসানো হয় দোকানপাট। ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীরা ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে স্বল্প ভাড়ায় দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার কারণে নগরবাসী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক ব্যবহার করেন। কিন্তু এসব বাহনের চালকরা সড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় নগরকেন্দ্রে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় সীমাহীন যানজট।

সাহেববাবাজার জিরো পয়েন্টে রাস্তা পার হওয়ার জন্য তার সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গৃহবধূ লিমা খাতুন। তিনি বলেন, রাস্তা পার হবো বলে প্রায় পাঁচ মিনিট থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু বেপরোয়া অটোরিকশার কারণে পার হতে পারছি না।

নগরীর উপকণ্ঠ কাঁটাখালী থেকে কাশিয়াডাঙা। প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা। এই সড়কে দেখা মিলবে রাস্তা দখল করে যাত্রী ওঠানামার দৃশ্য। এতে বাস-ট্রাকসহ অন্য যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এসব গাড়ির চালকরা জানান, ছোট গাড়ির কারণে অসুবিধায় পড়তে হয়। যাত্রী ওঠানামার সময় তারা রাস্তা দখল করে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এজন্য অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। তখন দায় আমাদের ওপরে এসে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর কাশিয়াডাঙা, হড়গ্রামবাজার, কোর্ট, কোর্ট স্টেশন, সিঅ্যান্ডবি, লক্ষ্মীপুর মোড়, সিটিবাইপাস, বর্ণালীর মোড়, রেলগেট, স্টেশন, শালবাগান, নওদাপাড়া, ভদ্রা, তালাইমারি, কাজলা, বিনোদপুর, সাহেববাজার এলাকায় তিন চাকার যানে ভিড়। অনেকে অভিযোগ করেন, তারা কোনো কিছুর নিয়ম না মেনেই যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে লোক ওঠানামা করায়। এতে অনেক সময় পিছন থেকে দ্রুতগতির গাড়ি আসলে দুর্ঘটনার শিকারও হয়। এ বিষয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক শামসুল ইসলাম জানান, দিনশেষে মালিককে জমার টাকা দিতে হয়। এখন সারাদিন অটো চালিয়েও এই টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। করোনাকালে যাত্রী কমে গেছে । তাই রাস্তায় লোক ডেকে ডেকে তুলতে হয়। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, এক সময় রাজশাহীতে ঘোড়ার গাড়ি চলেছে। তখন নির্ধারিত এলাকা থেকে একটার পর একটা ঘোড়ার গাড়ি যাত্রী নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তখন কোনো যানজট তৈরি হয়নি। আর এখন অটোরিকশার কোনো হিসাব নাই। যেখান-সেখান থেকে দুই-তিনটা যাত্রী নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাইদ জানান, সিটি করপোরেশন ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৭৫০টি অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এখনো ২ হাজার ৫০০ নিবন্ধন বাকি আছে, যা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর মোফাখখারুল ইসলাম জানান, এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে একসঙ্গে লাল ও সবুজ দুই রঙের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে। এ বিষয়টি আমরা সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। তারা এখনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে নগরীতে আবারও দুই রঙের অটোরিকশা চলাচল শুরু করবে।