যে কোনো প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মিলবে প্রতিকার
পিনাকি দাসগুপ্ত
দুই তরুণী। সম্পর্কে তারা ফুপাতো-মামাতো বোন। চাকরি করতেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায়। করোনা সংক্রমণের পর তাদের চাকরি চলে যায়। বেকার দুই জনকে তাদের এক সহকর্মী অন্যত্র চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শাহীনা নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। গত ৩ অক্টোবর রাতে শাহীনা তাদের ডেকে নিয়ে যান বাসায়। এরপর কয়েক যুবক তাদের জিম্মি করে রাখে। তাদের জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। বিষয়টি কোনো এক সচেতন নাগরিক ৯৯৯-এ ফোন করে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ দুই দিন পর গভীর রাতে তাদের বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত দেলোয়ার ও শাহীনা আকতারকে গ্রেফতার করে। এ তথ্যটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯-এর প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক তবারক উল্লাহ। আর এভাবে সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশের যে প্রান্তেই হোক নারীর প্রতি সহিংসতা দেখলেই ফোন করুন।
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক তবারক উল্লাহ আরো বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতাসংক্রান্ত যেসব কল আমাদের কাছে আসে। আমরা তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমরা সেই কলগুলো আমাদের পাবলিক সার্ভিস অ্যাসারিকং পয়েন্টে (থানা, পুলিশ ফাঁড়ি) জানাই। পরবর্তী সময়ে আমরা তা ফলোআপ করে থাকি। যাতে কোনো অবস্থায় ঢিলেঢালা না হয় এবং যথাযথ আপগ্রেড নিয়ে সেই ইভেন্টকে ক্লোজ করি। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সহযোগিতা পরের কথা, মানুষ ঘর থেকেই বের হওয়ার সাহস পায়নি অনেকদিন। ঐ সময়ও সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ৯৯৯। ঘরে খাবার নেই, তাদের পাশে দাঁড়ানো। কেউ বিপদে পড়েছে, তাকে সাহায্য করা। ঘরে কেউ অসুস্থ, তার জন্য অ্যামু্বলেন্সের ব্যবস্থা করা—এমন নানা পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে নিয়েছে জাতীয় জরুরি সেবার এই হটলাইন নম্বর।
জাতীয় জরুরি এ সেবায় কর্মরতরা জানান, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, নিপীড়ন, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, লিফটে আটকে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড থেকে শুরু করে পারিবারিক সমস্যা, শব্দদূষণ, ছিনতাই, অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত রোগীকে ফেরি পারাপার, প্রাণনাশের আশঙ্কা—এমন নানা বিপদের সময়েই মানুষের ডাক পেয়েছেন তারা। সাধ্যমতো সব পরিস্থিতিতেই তাদের সহযোগিতা করেছেন তারা।
বিনা পয়সায় ফোন :নাগরিকের জরুরি যে কোনো প্রয়োজনে মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯-এ বিনা পয়সায় ফোন করা যায়। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এই সেবা। প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক তবারক উল্লাহ বলেন, এই সেবাকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করতে কাজ চলছে। আগে কিছু ভুয়া কল আসত, তার পরিমাণ কমে এসেছে। এখন মোট কলের সেবা দেওয়ার হার বাড়ছে, যদিও শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড় হার ২২ শতাংশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর আবদুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে। দুটি তলায় সাড়ে চার শতাধিক কর্মী কাজ করছেন।