ব্যবহার করত গ্রাম পুলিশকে, থানার ওসি পরিচয়ে টাকা নিতো বিকাশে!

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) পরিচয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. ওসমান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে সহিদ (৩৩) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক স্থানীয় সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তবে হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল সেট ও সাতটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গ্রেফতারকৃত প্রতারক ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. রুশমত আলীর ছেলে।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে ওসমান নিজেকে কালীগঞ্জ, পূবাইল, টঙ্গী, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুরসহ গাজীপুরের বিভিন্ন থানাসহ নরসিংদীর পলাশ থানার ওসি এবং ওসি (তদন্ত) হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিত।

ঐসব কর্মকর্তাদের নাম পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ধনাঢ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মোবাইলে ফোন করত। নিজের গ্রামের বাড়িতে নিজ উদ্যোগে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ চলছে সেখানে কিছু টাকা দরকার বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। আর স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ওসমান এসব টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিতেন।

সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি সে কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় পোলট্রি ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে মোয়াজ্জেম হোসেন সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওসমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে কালীগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি (মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে) ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জিএমপির পূবাইল থানার মীরের বাজারের (মাজুখান) রেলক্রসিং এলাকা হতে ওসমানকে গ্রেফতার করে। পরে ওসমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৩ লাখ টাকাসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহূত তিনটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক জানান, ওসমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঐ মামলায় তাকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।