করোনার প্রভাবে চলতি বছর শেষ নাগাদ বিশ্বে নতুন করে ১৫ কোটি মানুষ হতদরিদ্রের তালিকায় চলে আসবে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে আসছিল। এবার এই ধারাবাহিকতা ছিন্ন হতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক নতুন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য ছিল সেটি আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সারা বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দারিদ্র্য হার মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘পভার্টি এন্ড শেয়ার প্রসপারিটি-২০২০’ শিরোনামে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে চরম দারিদ্র্য যতটা বাড়বে তার প্রতি ১০ জনের আট জন হবে মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। নতুন করে যে দরিদ্র মানুষের হার বাড়বে সেই তালিকায় উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাম রয়েছে। নতুন দারিদ্র্যের বড় অংশ হবে শহুরে জনগোষ্ঠী।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাবে এ বছর নতুন করে কমপক্ষে ৮ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১১ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যাবস্থায় ফেলবে। সব মিলিয়ে করোনার প্রভাবে এই সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এ পরিস্থিতি নির্ভর করছে অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা স্থায়ী হয় তার ওপর। হতদারিদ্র্য অবস্থা বলতে দৈনিক ১ দশমিক ৯ ডলারের (১৬২টাকা) নিচে আয়ের মানুষদের বোঝানো হয়েছে। করোনার প্রভাব না থাকলে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে এই আয়ের মানুষের সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসার প্রক্ষেপণ ছিল। কিন্তু এখন এটি বেড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হবে। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস উল্লেখ করেছেন, করোনার অতিমারি এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে বিশ্বের ১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ নতুন করে অতি দারিদ্র্যের কাতারে চলে এসেছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই গুরুতর ধাক্কা মোকাবিলা এবং উন্নয়নকে আগের ধারায় নিয়ে আসতে কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতিকে নতুন করে প্রস্তুত করতে হবে। মূলধন সরবরাহ বাড়ানোসহ শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাড়ানো এবং ব্যবসায়ের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য আয়ের কিছু দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেড়ে যাবে। অতি দরিদ্রদের ৮২ শতাংশ এই দেশগুলোতে বাড়বে। কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাবে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ওই সময়ে এই হার ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্র্যাবস্থা গতানুগতিক থাকলেও বাড়বে শহুরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। বিগত সময়গুলোতে দারিদ্র্য হ্রাসের চিত্রে দেখা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে এক শতাংশ হারে বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে। বর্তমান বিশ্বে ১০ শতাংশের কম মানুষ ১ দশমিক ৯ ডলারের নিচে আয় করছে। যদি এই দারিদ্র্য রেখা ৩ দশমিক ২ ডলার (২৭২ টাকা) করা হয় সেক্ষেত্রে দারিদ্র্য হার বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়ে যাবে।