নারীর ওপর সহিংসতা বন্ধে চলমান অন্দোলনের মধ্যেও ধর্ষণ-নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো পাঁচ নারীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, অটোরিকশা চালকের সহযোগিতায় এক তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আতুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও সহযোগিতার অভিযোগে দুই জনের নামে মামলা করলে পুলিশ সন্ধ্যায় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাদেপুকুরিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও উপজেলার চুকারপুঞ্জি গ্রামের আলী আহমদকে গ্রেফতার করে। গতকাল শনিবার ঐ তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল অফিস জানায়, উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুরে এক গৃহবধূকে তার ভাসুর ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মামলা দায়েরের পর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ভাসুর মঙ্গল খাঁকে গ্রেফতার করে। দুই সপ্তাহ আগে ঢাকার মিরপুরে দোয়ারীপাড়া বস্তিতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, পাইকগাছায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার আসামি মোস্তাক মিস্ত্রীকে নড়াইল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ওসি মো. এজাজ শফী জানান, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতার করে শনিবার সকালে পাইকগাছার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আধকানী উপজেলা বাজারের লুত্ফুর রহমান নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঐ কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ভুক্তভোগীর বাবা দুই জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার অপর আসামি কাউয়ারগলা গ্রামের মঈনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে চরফ্যাশন থানায় মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। গত শুক্রবার করা এ মামলায় অভিযুক্ত মফিজুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মফিজুল ইসলাম চরফ্যাশন পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত তোফাজ্জল হোসেন ফরাজীর ছেলে। তবে অভিযুক্তের ভাই খলিল ফরাজি দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি করেছে।
কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের হুমকি
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ভারতে পাচার চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুমকি অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নির্যাতিতার বাবা তার মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার রাতে জিডি করেছেন। বর্তমানে ঐ ছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিযোগ করেন নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা ঐ কলেজ ছাত্রীর বাবা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ঐ ছাত্রীকে নগরীর ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার সামনে থেকে দেবীদ্বার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আলাউদ্দিন সরকার সানমুন ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। এ ঘটনায় সাত জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ঐ সময় আসামিরা তার মেয়েকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করে ও নির্যাতন চালায়। পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় একটি হোটেলে আটকে রেখে তাকে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে প্রায় চার মাস পর গত ১ অক্টোবর তার মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে এবং সানমুনসহ অপহরণকারী চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। বর্তমানে আসামিদের লোকজন মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।